ফাতিমা সানার দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সও শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে জয় এনে দিতে পারেনি। ৪ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। আগামী রোববার শিরোপার লড়াইয়ে ভারতের মুখোমুখি হবে তারা।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে পাকিস্তান। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৩০ রান সংগ্রহ করে তারা।
পাকিস্তানের হয়ে অধিনায়ক ফাতিমা সানা ছিলেন সর্বোচ্চ সফল ব্যাটারদের একজন। ৩৬ বলে ৪৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল চারটি চার ও দুটি ছক্কার মার। এছাড়া সওয়াল জুলফিকর ২৪ এবং গুল ফিরোজা করেন ২১ রান।
শুরুতেই চাপে শ্রীলঙ্কা
১৩১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি শ্রীলঙ্কার। মাত্র ৩৩ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে দলটি। এই ধাক্কায় বড় অবদান ছিল ফাতিমা সানার। পাকিস্তানি অধিনায়ক বল হাতে তুলে নেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।
তবে এরপর ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দেন হর্ষিতা সমরবিক্রম ও কবিশা দিলহারি। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কা। হর্ষিতা ৩১ বলে ৩৬ এবং কবিশা ৩৩ বলে ৩৩ রান করে দলকে জয়ের ভিত গড়ে দেন।
আরও পড়ুনঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তেই হবে ভারত সফর: দীনেশ ত্রিবেদী
ফাতিমা অবশ্য দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে দুজনকেই সাজঘরে ফেরান। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই শ্রীলঙ্কার হাতে চলে যায়।
১৮.৪ ওভারেই ফাইনালের টিকিট
শেষদিকে নীলাক্সিকা সিলভা ও কৌশিনী নুত্যাঙ্গনের ব্যাটে সহজেই জয়ের কাছে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা। নীলাক্সিকা ১৮ এবং কৌশিনী ১০ রানে অপরাজিত থাকেন।
১৮.৪ ওভারে শ্রীলঙ্কার জয় নিশ্চিত হয়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ফাতিমা সানার বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে ফাইনালে তুলে দেন কৌশিনী নুত্যাঙ্গনে।
বল হাতেও উজ্জ্বল ফাতিমা
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়েও অসাধারণ ছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক। ৪ ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন তিনি। ব্যাটে-বলে এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান ফাতিমা।
তবে অধিনায়কের অসাধারণ নৈপুণ্যও পাকিস্তানকে ফাইনালে তুলতে পারেনি। সতীর্থদের ব্যর্থতার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একাধিক ক্যাচ হাতছাড়া হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটের পরাজয় মেনে মাঠ ছাড়তে হয় পাকিস্তানকে।





