নিম্নমানের পাঠ্যবই সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শনিবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ঢাকাস্থ কচুয়া উপজেলা সমিতি আয়োজিত ‘কচুয়ার উন্নয়নে জনমনের ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পাঠ্যবইয়ের মান নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে নিম্নমানের যেসব বই শনাক্ত হয়েছে, সেগুলো বাতিল করে নষ্ট করা হয়েছে। নিম্নমানের বই সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, পাঠ্যবই ছাপার ক্ষেত্রে কাগজ, কালি ও মুদ্রণপ্রক্রিয়ার গুণগত মান নিশ্চিত করতে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না। দেশীয় মুদ্রণশিল্পকে এগিয়ে নিতে এ বছর বিদেশি কোনো কোম্পানিকে বই ছাপার দায়িত্ব দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত বই ছাপা ও সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও সময়মতো ভালো মানের বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বর্তমানে ১৫০টি উপজেলায় এ কর্মসূচি চালু রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে এটি সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
মিড ডে মিলে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে কুপন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা কুপন ব্যবহার করে বিদ্যালয়ের ক্যান্টিন থেকে খাবার সংগ্রহ করতে পারবে। খাবারের তালিকায় নতুন কিছু আইটেম যুক্ত করার পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করতে সরবরাহ ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রথমে কয়েকটি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এ উদ্যোগ চালুর পর সারাদেশে বাস্তবায়নের কথা জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের বহুমুখী দক্ষতা বিকাশে চতুর্থ শ্রেণিতে স্পোর্টস ও কালচারাল বই যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও বলেন শিক্ষামন্ত্রী। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন সিলেবাস প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
পরিবর্তিত বিশ্বে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এসব প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ভাষা চালুর পাশাপাশি সৌদি আরবেও টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
পরীক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ভবিষ্যতে পরীক্ষার দুই সেট প্রশ্নপত্র দুই জায়গায় প্রস্তুত করা হবে। বিজি প্রেস ও আর্মি সিকিউরিটি প্রেসে প্রশ্নপত্র তৈরির ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষার্থীদের সময়ের ক্ষতি কমাতে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা নেওয়া এবং বর্ষাকালীন দুর্যোগ এড়িয়ে পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়ন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার কারণ ব্যাখ্যা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাস্তবতার আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে ক্রস-বর্ডার এডুকেশন সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ৫০০-এর মধ্যে থাকা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশে শাখা স্থাপন করতে চাইলে অনুমোদনের সুযোগ তৈরি করতে বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
কচুয়ার উন্নয়নে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি ও উৎপাদনমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই। কচুয়ার শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষায় আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কচুয়ার বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে সেক্টরভিত্তিক কমিটি গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট নাজমুন নাহার বেবি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কচুয়ার বিশিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষাবিদ, কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কচুয়ার কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।





