শারীরিক কোনো সমস্যা দেখা দিলে নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ সেবন না করে নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যশোর ঝিকরগাছার চিকিৎসক ডা. হাসান আরিফুর রহমান। রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, শারীরিক সমস্যার কারণ বোঝার চেষ্টা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। তাঁর আন্তরিক ব্যবহার ও রোগীবান্ধব আচরণে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগীও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ডা. হাসান আরিফুর রহমান এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), পিজিটি (মেডিসিন) ও পিজিটি (সার্জারি) ডিগ্রিধারী। তিনি ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক আরএমও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানেও মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি মেডিসিন, বাতব্যথা, শিশু, বক্ষব্যাধি, চর্ম ও যৌন রোগসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা পরামর্শ দেন।
চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে ডা. হাসান আরিফুর রহমান বলেন, শারীরিক কোনো সমস্যা দেখা দিলে নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অনেক সময় একই ধরনের উপসর্গ বিভিন্ন রোগের কারণে হতে পারে। তাই রোগের প্রকৃত কারণ না জেনে ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়।
প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগের কারণ নির্ণয় এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, রোগীকে চিকিৎসকের কাছে তাঁর সমস্যার বিস্তারিত তথ্য জানাতে হবে। কতদিন ধরে সমস্যা হচ্ছে, কী ধরনের উপসর্গ রয়েছে, আগে কোনো চিকিৎসা নেওয়া হয়েছে কি না এসব তথ্য চিকিৎসককে জানালে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পরামর্শ দিতে সুবিধা হয়। একই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন, নির্ধারিত সময় পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজন হলে পুনরায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
চিকিৎসা নিতে আসা কুরবান আলী বলেন, শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি আগে মনোযোগ দিয়ে আমাদের সমস্যার কথা শোনেন। এরপর কী সমস্যা হতে পারে এবং কীভাবে চিকিৎসা নিতে হবে, তা সহজভাবে বুঝিয়ে বলেন। তাঁর সঙ্গে কথা বললে রোগ নিয়ে অযথা ভয় বা দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমে যায়। চিকিৎসকের ব্যবহারও আন্তরিক ও ভদ্র। এ কারণে প্রয়োজন হলে তাঁর কাছেই চিকিৎসা পরামর্শ নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
অন্যদিকে চিকিৎসা নিতে আসা কহিনুর বেগম বলেন, নারীদের অনেক শারীরিক সমস্যা থাকে, যেগুলো নিয়ে অনেক সময় সরাসরি কথা বলতে সংকোচ হয়। কিন্তু চিকিৎসক ধৈর্য ধরে সমস্যার কথা শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। কোন বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে, কীভাবে চিকিৎসা নিতে হবে এসব বিষয় সহজভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। চিকিৎসকের আন্তরিক ব্যবহার ও রোগীর প্রতি মনোযোগ আমার ভালো লেগেছে।
স্থানীয় রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চিকিৎসকের কাছে রোগীর সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং সহজ ভাষায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, বাতব্যথা, শ্বাসকষ্ট, শিশুদের বিভিন্ন সমস্যা কিংবা চর্ম ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতার ক্ষেত্রে যথাযথ চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা।
ডা. হাসান আরিফুর রহমান নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি রোগীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ পরিবর্তন বা বন্ধ না করার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সঠিক তথ্যের আদান-প্রদান চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত, তিনি রোগী দেখেন ঝিকরগাছার ওয়াপদা রোডের নাসিমা কমপ্লেক্সের এস. কে. ডায়াগনস্টিক সেন্টার এ্যান্ড ক্লিনিকে। রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজন অনুযায়ী নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নিজের ইচ্ছায় ওষুধ সেবন না করার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসক ডা. হাসান আরিফুর রহমান।





