আজ আন্তর্জাতিক গিবন দিবস: বন রক্ষায় বিপন্ন প্রাণী সংরক্ষণের আহ্বান

আজ আন্তর্জাতিক গিবন দিবস: বন রক্ষায় বিপন্ন প্রাণী সংরক্ষণের আহ্বান
আজ আন্তর্জাতিক গিবন দিবস ২০২৬ | গিবন সংরক্ষণের আহ্বান

আজ ২৪ অক্টোবর আন্তর্জাতিক গিবন দিবস। এশিয়ার বনাঞ্চলে বসবাসকারী গিবনদের অস্তিত্ব রক্ষা, তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং বিলুপ্তির ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়।

২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক গিবন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘The Forest Has a Voice, Can You Hear It?’—বাংলায় যার অর্থ, ‘বনেরও একটি কণ্ঠ আছে, আপনি কি তা শুনতে পাচ্ছেন?’ প্রতিপাদ্যটি গিবনের ডাক, বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য এবং প্রকৃতি সংরক্ষণে মানুষের ভূমিকার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

গিবন কী?

গিবন এশিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনাঞ্চলে বসবাসকারী ছোট আকৃতির বনমানুষ। এরা বানর নয়; লেজবিহীন এ প্রাণী দীর্ঘ বাহুর সাহায্যে গাছের এক ডাল থেকে অন্য ডালে দ্রুত চলাচল করতে পারে। গিবনের সুরেলা ও জোরালো ডাক বনের পরিবেশের একটি পরিচিত বৈশিষ্ট্য।

বিশ্বে গিবনের প্রায় ২০টি প্রজাতি রয়েছে। এসব প্রজাতির সবকটিই কোনো না কোনো মাত্রায় বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।

গিবন কেন বিপন্ন?

বন উজাড়, কৃষিজমি ও বসতি সম্প্রসারণ, অবৈধ শিকার এবং বন্য প্রাণী বাণিজ্যের কারণে গিবনের স্বাভাবিক আবাসস্থল ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। গাছপালানির্ভর জীবনযাপনের কারণে বনভূমি ধ্বংস হলে তাদের খাদ্য সংগ্রহ, চলাচল ও বংশবিস্তারে সমস্যা তৈরি হয়।

আরও পড়ুনঃ আজ বিশ্ব পোলিও দিবস: টিকাদানের মাধ্যমে পোলিওমুক্ত বিশ্ব গড়ার আহ্বান

গিবন শুধু বনজ পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী নয়; ফল খাওয়ার পর বীজ ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে বন পুনরুজ্জীবনেও ভূমিকা রাখে। তাই গিবন সংরক্ষণ মানে তাদের পাশাপাশি বনাঞ্চলের অন্যান্য উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা করা।

বাংলাদেশের গিবন সংরক্ষণ

বাংলাদেশে হুলুক গিবন বা উল্লুক পাওয়া যায়। দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বনাঞ্চলে এদের উপস্থিতি রয়েছে। বনভূমি ধ্বংস, আবাসস্থল বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এদের টিকে থাকার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

গিবনের আবাসস্থল রক্ষা, বন উজাড় বন্ধ, বন্য প্রাণী শিকার ও পাচার প্রতিরোধ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সংরক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত করা এদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুনঃ আজ জাতিসংঘ দিবস

গিবন রক্ষায় করণীয়

আন্তর্জাতিক গিবন দিবসে বন্য প্রাণী ও বন সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে। গিবনকে পোষা প্রাণী হিসেবে কেনাবেচা না করা, বন্য প্রাণীর অবৈধ বাণিজ্যকে উৎসাহিত করে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা এবং বনাঞ্চল সংরক্ষণে সহায়তা করা প্রত্যেকের দায়িত্ব।

আরও পড়ুনঃ আজ বিশ্ব উন্নয়ন তথ্য দিবস: উন্নয়ন সমস্যা সমাধানে তথ্যের গুরুত্ব

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ণ রাখতে গিবনসহ সব বিপন্ন প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বনের কণ্ঠ যেন হারিয়ে না যায়—আন্তর্জাতিক গিবন দিবসের আহ্বান সেটিই।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।