রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পক্ষে ট্রাম্প, জেলেনস্কির বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধে অনীহার অভিযোগ

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পক্ষে ট্রাম্প, জেলেনস্কির বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধে অনীহার অভিযোগ
চীন ও রাশিয়াকে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখার স্বার্থে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা এগিয়ে নিতে রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে রাখা জরুরি। একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বিরুদ্ধে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে অনিচ্ছার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পরিকল্পনা স্থগিত রাখা নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি জানান, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা চলছে। এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চান না, যাতে মস্কো আলোচনা থেকে সরে যায়।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহে তাঁর সঙ্গে জেলেনস্কির কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বেড়েছে।

নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিরোধিতা জেলেনস্কির

রোববার মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলে তা ইউক্রেনের জন্য ক্ষতিকর হবে। একই সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাও বাড়তে পারে।

জেলেনস্কি বলেন, তাঁকে এবং পুতিনকে একইভাবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া আগ্রাসন চালিয়েছে, ইউক্রেনের ভূখণ্ড দখল করেছে এবং রুশ বাহিনীর হামলায় প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুরা প্রাণ হারিয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের জবাব দিতে তাঁর দেশকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মস্কোর ওপর চাপ কমানো হলে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

জেলেনস্কির বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অভিযোগ

অন্যদিকে, জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধ করতে চান না বলে অভিযোগ করেছেন ট্রাম্প। রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে ডিজেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, এসব হামলা আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল সরবরাহে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে।

ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, ইউরোপের কাছ থেকে বিপুল আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পরও জেলেনস্কি যুদ্ধের অবসান চান না। এমনকি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট শুরু থেকেই যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে আন্তরিক ছিলেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।

তবে যুদ্ধ বন্ধে জেলেনস্কির অনিচ্ছা নিয়ে ট্রাম্পের এই বক্তব্য তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন; এটিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে যুদ্ধ বন্ধে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংঘাতের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত হয়নি।

রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখা, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের পথ খুঁজে বের করা—এই বিষয়গুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশগুলো ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মতবিরোধ ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনায় কী প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।