শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সীমান্তের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন খুলনা সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মাসুদুর রহমান। এ সময় তিনি পূজাঁ উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দদের সাথে মতবিনিময় করেন।
বিজিবির পক্ষ থেকে পূজামন্ডপগুলোর নিরাপত্তায় কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
পূজামণ্ডপ ঘিরে দিন-রাত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও মোবাইল পেট্রোল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড ও সাঁজোয়া যান।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে সীমান্তের বেনাপোল হরিদাস ঠাকুর পাটবাড়ি ও পেঁচোর বাওড় আশ্রমসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও পূজা উদ্যাপন কমিটির সাথে মতবিনিময়ে এ কথা জানালেন খুলনা সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মাসুদুর রহমান।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, যশোরের ৪৯ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে ২৯টি পূজামণ্ডপে এ বছর দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এসব পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্যরা ইতিমধ্যে দিন-রাত টহল, রেকি ও মোবাইল পেট্রোল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় সম্ভাব্য চোরাচালান, নাশকতা ও দুষ্কৃতকারীদের তৎপরতা প্রতিরোধে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন তারা।
পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পূজা শুরুর আগেই নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে বিজিবি।
বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন, যশোরের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মোট ২২২টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দুই হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারা ৫৮ টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প থেকে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির এপিসি প্লাটুন ও বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করেছেন।
বেনাপোলের হরিদাস ঠাকুরের পাঠবাড়ী ও সাদিপুর পেঁচোর বাঁওড় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে খুলনা সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মাসুদুর রহমান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপ এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পূজামণ্ডপ কমিটির নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কোনো দুষ্কৃতকারী যাতে উৎসবের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য বিজিবি আগে থেকেই সতর্ক রয়েছে। যেকোনো প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সহযোগিতা দিতে ব্যাটালিয়ন সদরে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি আসন্ন দুর্গাপূজা সামনে রেখে সীমান্তবর্তী বিওপিগুলোতে জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে।





