সরকারের বিভিন্ন সেবা ও উন্নয়ন প্রকল্প কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
আজ রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলরুমে স্থানীয় সরকার বিভাগ আয়োজিত সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
পদায়ন-পদোন্নতিতে সততা ও দক্ষতার গুরুত্ব
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তাদের পদায়ন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে সততা ও কর্মদক্ষতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষা এবং জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার অর্থসাশ্রয়ী নীতি অনুসরণ করছে বলেও জানান তিনি।
মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের শুধু চাকরির দায়িত্ব হিসেবে নয়, বরং যে এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন সেটিকে নিজের এলাকার মতো বিবেচনা করে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় পর্যায়ের সম্পদ ও সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় গুরুত্ব
সভায় সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচির মধ্যে সমন্বয়, সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পে প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্বাচন এবং পৌর এলাকার বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা সমাধানে মাঠ প্রশাসনের করণীয় নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
কৃষক কার্ড বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জমির তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় কৃষি বিভাগের ব্লক সমন্বয়কদের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করতে হবে। এ কার্যক্রমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সমন্বয় করার পরামর্শ দেন তিনি।
এ ছাড়া নাগরিক সেবা অনলাইনকরণ, পৌর এলাকাকে সিসি ক্যামেরার আওতায় এনে অপরাধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
জনগণের জন্য সরকারি অফিসের দরজা খোলা রাখার আহ্বান
সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অপপ্রচার বা মামলার আশঙ্কায় পিছিয়ে না গিয়ে আইনসম্মত ও যৌক্তিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যেন সহজে তাদের সমস্যা ও দুর্ভোগের কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারে, সেজন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দরজা সবসময় জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।
নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের নেতৃত্বে কর্মকর্তা ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিরাপদ ও উন্নত সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান। এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সভায় সব সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলার উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পৌরসভার প্রশাসকরাও অংশ নেন।





