আজ ১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবস। তরুণদের আত্মকর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়। এবারের জাতীয় যুব দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।
দিবসটি উপলক্ষে চাকরি মেলা, যুব পুরস্কার প্রদান, উদ্যোক্তাদের সম্মাননা এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ানোই এসব আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তরুণ। দেশের অর্থনীতি, সামাজিক পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও জাতীয় উন্নয়নে এই জনগোষ্ঠীর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যথাযথ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং কাজের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।
এবারের দিবসের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে চাকরি মেলা। এতে ৫৫টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মেলার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার কর্মপ্রত্যাশী তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
আরও পড়ুনঃ তালিবানপ্রীতি: নারীশিক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্তের পক্ষে জাকির নায়েক
এ ছাড়া দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে দেশজুড়ে ১২ হাজার পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি ব্যবস্থায় বিকল্প উৎসের ব্যবহার সম্প্রসারণের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সপ্তাহব্যাপী আয়োজনের মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য র্যালি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম, খাল খনন, রক্তদান কর্মসূচি, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং যুবঋণ বিতরণ।
পাশাপাশি সফল তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণের আয়োজন রাখা হয়েছে।
যুবসমাজের সামনে কর্মসংস্থান ও দক্ষতার চ্যালেঞ্জ
দেশের যুবসমাজের সামনে বর্তমানে বেকারত্ব, কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
আরও পড়ুনঃ ইসরায়েলে সরকার গঠনে আইজেনকোটের ৪ শর্ত, হামাস নির্মূলের অঙ্গীকার
বিশেষ করে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তরুণদের দক্ষ করে তোলা, প্রশিক্ষণের পর চাকরির ব্যবস্থা এবং নতুন উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী উদ্যোক্তা হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। নতুন ব্যবসা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ, কৃষি, প্রযুক্তি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
দক্ষ যুবশক্তিই উন্নত বাংলাদেশের ভিত্তি
একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন অনেকাংশেই নির্ভর করে তার তরুণ জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা, সৃজনশীলতা ও কর্মদক্ষতার ওপর। তরুণদের মেধা, উদ্ভাবনী চিন্তা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
জাতীয় যুব দিবস কেবল আনুষ্ঠানিক উদ্যাপনের দিন নয়; এটি যুবসমাজের সম্ভাবনা, অধিকার, দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবার উপলক্ষ। দক্ষতা, আত্মনির্ভরশীলতা ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণদের জাতীয় উন্নয়নের মূল স্রোতে যুক্ত করা সম্ভব হলে সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার পথ আরও সুগম হবে।





