ইসরায়েলে সরকার গঠনে আইজেনকোটের ৪ শর্ত, হামাস নির্মূলের অঙ্গীকার

ইসরায়েলে সরকার গঠনে আইজেনকোটের ৪ শর্ত, হামাস নির্মূলের অঙ্গীকার
আইজেনকোটের ৪ শর্ত

ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনে সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের জন্য চারটি মৌলিক শর্ত ঘোষণা করেছেন ইয়াশার পার্টির চেয়ারম্যান গাদি আইজেনকোট।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) তিনি জানিয়েছেন, যেকোনো নির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমকে) এসব নীতিতে সম্মত হলে তাঁর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় অংশীদার হতে পারবেন।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি নেসেটে ২১টি আসন পেয়েছে। তাঁর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোটের মোট আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি পেয়েছে ২৭টি আসন এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন জোটের মোট আসন ৫৩। আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ১৯টি আসন।

ভোট গণনা সম্পন্ন হওয়ার পর আইজেনকোট বলেন, ইসরায়েলের জাতীয় পরিচয়, নাগরিকদের দায়িত্ব এবং গাজায় হামাসের সামরিক ও শাসনক্ষমতা বিলুপ্ত করার বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে—এমন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে তিনি যতটা সম্ভব বিস্তৃত একটি জায়নবাদী ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল সরকার গঠন করতে চান।

তিনি বলেন, ‘যে কোনো সংসদ সদস্য এই নীতিগুলোতে স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত, তিনি ইসরায়েলের জন্য একটি নতুন সরকার গঠনের সম্ভাব্য অংশীদার হতে পারেন। আমাদের গঠিত সরকারের দরজা তাঁদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যাঁরা এসব নীতি মেনে নিয়ে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত।’

সরকার গঠনে আইজেনকোটের চার দফা শর্ত

সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের জন্য ঘোষিত চারটি শর্ত হলো—

১. রাষ্ট্রের পরিচয়: ইসরায়েলকে ইহুদি, গণতান্ত্রিক, উদার ও সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।

২. স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র: ইসরায়েলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত মূল্যবোধ ও আদর্শের প্রতি অঙ্গীকার থাকতে হবে।

৩. সবার জন্য জাতীয় দায়িত্ব: দেশের সব নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক, জাতীয় অথবা বেসামরিক সেবার ব্যবস্থা সমর্থন করতে হবে।

৪. হামাস প্রশ্নে অবস্থান: হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং গাজায় সংগঠনটির সামরিক ও শাসনক্ষমতা ধ্বংস করার অঙ্গীকার করতে হবে।

আইজেনকোটের ভাষ্য, এসব নীতিই হবে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি বিস্তৃত সরকার গঠনের মূল ভিত্তি। কোনো একটি রাজনৈতিক শিবিরের মতাদর্শ অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে তিনি বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করতে চান।

এদিকে এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই তেল আবিবে আরব ও ইহুদি রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে নতুন সরকার গঠনের দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারে বিভাজন দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আইজেনকোট

নির্বাচনী প্রচারণার সময়ই ইসরায়েলের রাজনৈতিক বিভাজন দূর করে দেশের শাসনব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আইজেনকোট।

তিনি বলেছিলেন, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা মিথ্যাচারের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে বিভক্ত ইসরায়েলি সমাজকে আবার একত্রিত করতে চান। তাঁর প্রতিশ্রুতি ছিল, নতুন নেতৃত্বে কোনো একটি পক্ষ অন্য পক্ষকে পরাজিত করার রাজনীতি চলবে না। ‘আমরা’ ও ‘তারা’—এই বিভাজনের রাজনীতিরও অবসান ঘটানো হবে।

নির্বাচনের পরও সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। সম্ভাব্য জোটের পরিসর বাড়াতে রাজনৈতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবেন বলেও জানিয়েছেন ইয়াশার পার্টির নেতা।

আইজেনকোটের লক্ষ্য, ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক অবস্থান দ্রুত উন্নত করা।

নেসেটের স্পিকার হওয়ার আগ্রহ নেই, জানালেন লিবারম্যান

অন্যদিকে ইসরায়েলের আরেক রাজনৈতিক নেতা ও ইসরায়েল বেইতেনু পার্টির চেয়ারম্যান আভিগদোর লিবারম্যান নেসেটের স্পিকার হওয়ার আগ্রহের বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অস্বীকার করেছেন।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, নেসেটের স্পিকার পদ নিয়ে তাঁর কাছে একাধিক প্রশ্ন এসেছে। তবে এ পদ পাওয়ার কোনো ইচ্ছা বা পরিকল্পনা তাঁর নেই।

লিবারম্যান লেখেন, ‘দুষ্ট লোকেরা কখনো বিশ্রাম নেয় না। নেসেটের স্পিকার পদের দাবি নিয়ে আমি বেশ কয়েকটি প্রশ্ন পেয়েছি। স্পিকার হওয়ার কোনো ইচ্ছা বা অভিপ্রায় আমার নেই।’

ইসরায়েলের নির্বাচনের পর সরকার গঠনের সমীকরণে আইজেনকোটের চার দফা শর্ত এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার অবস্থান এখন দেশটির পরবর্তী সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।