এবার ময়মনসিংহে ড্রামের ভেতর ব্যবসায়ী নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধরের মরদেহ

এবার ময়মনসিংহে ড্রামের ভেতর ব্যবসায়ী নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধরের মরদেহ
নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধরের মরদেহ

ময়মনসিংহের একটি স্লুইসগেট এলাকা থেকে প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরে মরদেহটি নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর (৫০) নামে এক ব্যবসায়ীর বলে শনাক্ত করেন তার স্বজনরা।

বুধবার সকালে ময়মনসিংহ নগরের বেগুনবাড়ি এলাকায় একটি স্লুইসগেটের সামনে পানিতে ভাসতে দেখা যায় একটি ড্রাম।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, ময়মনসিংহের বেগুনবাড়ি এলাকার একটি স্লুইসগেটে প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর মরদেহ ভেসে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

মরদেহের প্যান্টের পকেট থেকে পাওয়া একটি টোকেনের সূত্র ধরে নিহতের পরিচয় সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া যায়। তিনি ময়মনসিংহের আঠারবাড়ি বিল্ডিং এলাকার বাসিন্দা ছিলেন বলে জানা গেছে।

নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর একটি যৌথ মালিকানাধীন গহনার দোকানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তার স্ত্রী সুমিতা রানী সূত্রধর ও ছেলে জয় মরদেহটি শনাক্ত করেন।

পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মরদেহের মাথা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং হত্যার পেছনে কী কারণ রয়েছে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

ঘটনাটি বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে চলমান উদ্বেগের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হামলা, হত্যাকাণ্ড, ব্যবসা ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধসহ নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে প্রতিটি ঘটনার কারণ ও এর সঙ্গে সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্য জড়িত কি না, তা পৃথকভাবে তদন্ত করে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ও নিখোঁজের ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। কেউ চাকরি, ব্যবসা কিংবা নিজ এলাকায় অবস্থান নিয়ে চাপের মুখে পড়ছেন—এমন অভিযোগও বিভিন্ন পর্যায়ে উঠছে।

তদন্ত ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি

নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে দ্রুত তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, দীপু চন্দ্র দাসকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার পর থেকে বাংলাদেশে যেভাবে হিন্দুদের উপর হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে চলেছে তাতে এর শেষ যে কোথায় কেউ তা বলতে পাচ্ছেনা।

রংপুরে গনপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারকে হত্যার পর থেকে সে হত্যাকাণ্ড আরও বেড়ে চলেছে। সারা বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর একের পর এক হত্যা গুম নিরুদ্দেশ যেন ৭১এর সেই কালো দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। তখন ছিলো একটি জাতীয় বিপর্যয় আর এখন হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে চিরতরে উচ্ছেদ করার নীলনকশা।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে সব সম্প্রদায়ের নাগরিকের সমান নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই কোনো ব্যক্তির হত্যাকাণ্ড বা সহিংসতার ঘটনায় অপরাধের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।