ভারতের পাঞ্জাবের মোগায় অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের হামলায় দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গুলিতে আহত আরও তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রাথমিকভাবে পুরোনো শত্রুতা বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা পুলিশের।
ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের মোগা এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিনজন। রবিবার অঙ্গদপুরা এলাকায় একটি দোকানের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। প্রকাশ্য স্থানে এমন গুলিবর্ষণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত দুজন হলেন সাহিল জিন্দাল (৪০) ও গগন জিন্দাল (৩০)। আহত তিনজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুনঃ হরমনপ্রীত ও দীপ্তির সেঞ্চুরিতে ভারতের বড় জয়, সিরিজ জিতল ২-০ ব্যবধানে
কালো এসইউভিতে এসে গুলি, ঘটনাস্থল থেকে পালায় হামলাকারীরা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার অঙ্গদপুরা এলাকায় একটি দোকানের সামনে বসে নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন সাহিল, গগনসহ পাঁচজন। এ সময় কালো রঙের একটি এসইউভি গাড়িতে করে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি সেখানে আসে।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই গাড়ি থেকে নেমে বা গাড়িতে অবস্থান করেই হামলাকারীরা তাঁদের লক্ষ্য করে একাধিকবার গুলি চালায়। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায় তারা।
গুলিতে সাহিল ও গগনসহ আরও দুজন আহত হন। এ ছাড়া গুলির ছিটকে আসা অংশের আঘাতে আহত হন পঞ্চম ব্যক্তি। পরে স্থানীয়রা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাহিল ও গগনের মৃত্যু হয়। বাকি তিনজনের অবস্থাও গুরুতর বলে জানা গেছে।
পুরোনো শত্রুতা, নাকি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব—তদন্তে পুলিশ
ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করেছে মোগা পুলিশ। হামলার পেছনে পুরোনো শত্রুতা কিংবা অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর পারস্পরিক বিরোধ কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মোগার পুলিশ কর্মকর্তা সরতাজ সিং চাহাল জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে হামলার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ জাপান সফরে তারেক রহমান, ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব কপি করুন
এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চালানোর কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
তবে হামলার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর
দুই ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় পাঞ্জাবের রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিজেপি নেতা মজিন্দর সিং সিরসা (নামটির বানান ও পরিচয় প্রকাশের আগে যাচাই প্রয়োজন) এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, পাঞ্জাবে আম আদমি পার্টির সরকার অপরাধী চক্রের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ মক্কা-মদিনামুখী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি সৌদির, অস্বীকার হাউথিদের
এ জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান ও আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে দায়ী করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া শিরোমণি আকালি দলের নেতা বিক্রম সিং মাজিথিয়া এবং বিজেপি নেতা রবনীত সিংও ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তবে রাজনৈতিক নেতাদের এসব বক্তব্য অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিবেচ্য। হামলার সঙ্গে অপরাধী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব।
পাঞ্জাবের মোগায় এই গুলিবর্ষণের ঘটনায় দুই ব্যক্তির মৃত্যু এবং আরও তিনজনের গুরুতর আহত হওয়ার পর হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করাই এখন পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।





