সৌদি আরবের দাবি, মক্কা ও মদিনা অঞ্চলের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে পবিত্র দুই শহরকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইয়েমেনের হাউথি বিদ্রোহীরা। এদিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দৃশ্য ধারণ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না দেওয়ার বিষয়ে সৌদিতে বসবাসরত ভারতীয়দের সতর্ক করেছে নয়াদিল্লি।
পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনা অঞ্চলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হাউথি বিদ্রোহীদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে হাউথিরা পবিত্র দুই শহরকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
শনিবারের এই ঘটনার পর সৌদি আরবের কয়েকটি এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। দেশটির কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিহত করা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ জেদ্দা, তায়েফ, রাবিগ এবং মক্কা অঞ্চলের কয়েকটি স্থানে পড়েছে। তবে পবিত্র শহর দুটিকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ নিয়ে সৌদি আরব ও হাউথিদের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে।
সৌদিতে ভারতীয় নাগরিকদের সতর্কবার্তা
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা ও আইন মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতীয় নাগরিকদের উদ্দেশে জারি করা সতর্কবার্তায় ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন প্রতিহত করার ঘটনা, নিরাপত্তা অভিযান কিংবা এ ধরনের ঘটনার দৃশ্য ধারণ ও অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ জাপান সফরে তারেক রহমান, ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব কপি করুন
বিশেষ করে সামরিক বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এ ধরনের দৃশ্য প্রকাশের ফলে নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রতিরক্ষা কার্যক্রম কিংবা সংশ্লিষ্ট স্থানের সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সৌদি আরবে অবস্থানরত ভারতীয়দের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুসরণ, সতর্ক থাকা এবং কোনো ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে দূতাবাসের সতর্কবার্তা হামলার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে না; এটি মূলত চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা।
হাউথিদের পাল্টা দাবি
সৌদি আরবের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে হাউথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, তাঁদের সামরিক অভিযান পবিত্র মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়নি। হাউথিদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর এবং সামরিক অবকাঠামো।
অন্যদিকে, সৌদি কর্তৃপক্ষ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা এবং বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসাবশেষ পড়ার তথ্য জানিয়েছে। ফলে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে এ বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুনঃ পাঞ্জাবে দোকানের সামনে গুলি, নিহত ২; আশঙ্কাজনক আরও ৩ জন
পবিত্র দুই শহরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
ইসলামের দুই পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনা বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছর হজ, ওমরাহ ও অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ সৌদি আরবে যান। এ কারণে এই দুই শহর বা আশপাশের অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে যেকোনো খবর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই প্রতিহত করা হয়েছে। তবে হাউথিদের অস্বীকৃতির কারণে হামলার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যবস্তু নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে।
আরও পড়ুনঃ হরমনপ্রীত ও দীপ্তির সেঞ্চুরিতে ভারতের বড় জয়, সিরিজ জিতল ২-০ ব্যবধানে
সব মিলিয়ে, সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি, হাউথিদের পাল্টা বক্তব্য এবং ভারতীয় নাগরিকদের জন্য জারি করা সতর্কবার্তা—সবকিছুই অঞ্চলের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে। এ অবস্থায় সৌদি আরবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা এবং যাচাইহীন ছবি বা ভিডিও প্রচার থেকে বিরত থাকা গুরুত্বপূর্ণ।





