আজ পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম। হিজরি বর্ষের রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখে প্রতিবছর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন মসজিদ, খানকা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোরআন তিলাওয়াত, মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক দিনের ছুটি রয়েছে। সংশোধিত বাৎসরিক ছুটির তালিকা অনুযায়ী, এদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো ক্লাস বা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না।
ছুটির তারিখ পরিবর্তন
এর আগে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকায় ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের ছুটি ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে চাঁদ দেখার ওপর হিজরি তারিখ নির্ভরশীল হওয়ায় পরে এ ছুটির তারিখ পরিবর্তন করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত আগের প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে ছুটির তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ সংশোধন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
মন্ত্রণালয় এর আগে ২০ মে জারি করা ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকায় ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের তারিখ নির্ধারণ করেছিল। পরবর্তী সময়ে হিজরি তারিখের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তা সংশোধন করা হয়।
ধর্মীয় আয়োজন
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব আয়োজনে বড়পীর হজরত আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)-এর জীবন, আধ্যাত্মিক সাধনা, ধর্মীয় শিক্ষা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মসজিদ, খানকা ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোরআন তিলাওয়াত, মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এসব কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি যেভাবে
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি ঘোষণা করা হলে সাধারণত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আগেই নোটিশের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়।
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম কী?
‘ইয়াজদাহম’ ফারসি শব্দ, যার অর্থ এগারো। সেই অর্থে ‘ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম’ বলতে ১১তম দিনের ফাতেহা বা ফাতেহা শরিফকে বোঝানো হয়। প্রতি হিজরি বছরের রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখে এটি পালনের প্রচলন রয়েছে।
সুফি ঐতিহ্যে দিনটি হজরত আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)-এর ওফাত দিবস হিসেবে পরিচিত। প্রচলিত ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, হিজরি ৫৬১ সালের ১১ রবিউস সানিতে তিনি ইন্তেকাল করেন।
দক্ষিণ এশিয়ায় সুফিবাদের প্রসারে আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)-এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমকে অনেকের কাছে ‘গেয়ারভি শরিফ’ নামেও অভিহিত করা হয়।
ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্য অনুসারে দিবসটি উপলক্ষে তাঁর জীবন ও শিক্ষার বিভিন্ন দিক স্মরণ করা হয় এবং মানুষের কল্যাণ, নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য দোয়া করা হয়।





