শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে যশোরের সীমান্তবর্তী এলাকা ও শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
এ উপলক্ষে সীমান্ত এলাকায় দিন-রাত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও মোবাইল পেট্রোল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড ও সাঁজোয়া যান।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেনাপোলের হরিদাস ঠাকুর পাটবাড়ী আশ্রমসহ সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা গেছে, ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে ২৯টি এবং যশোর শহরে ২০টি পূজামণ্ডপে এ বছর দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এসব মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্যরা নিয়মিত টহল, রেকি ও মোবাইল পেট্রোল পরিচালনা করছেন।
একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় সম্ভাব্য চোরাচালান, নাশকতা ও দুষ্কৃতকারীদের তৎপরতা প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে পূজা শুরুর আগেই নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন, যশোরের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মোট ২২২টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দুই হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁরা ৫২টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প থেকে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া নিরাপত্তা কার্যক্রমে বিজিবির এপিসি প্লাটুন ও বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াডও নিয়োজিত থাকবে।
বেনাপোলের সাদিপুর পাঁচুয়ার বাওড় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপগুলোর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো দুষ্কৃতকারী যাতে উৎসবের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য বিজিবি আগে থেকেই সতর্ক রয়েছে। যেকোনো প্রয়োজনে দ্রুত সহযোগিতা দিতে ব্যাটালিয়ন সদরে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমান্তবর্তী বর্ডার আউট পোস্টগুলোতে (বিওপি) জনবল বাড়ানো হয়েছে।





