ঢাকা: দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ, বিশুদ্ধ ও মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রযুক্তিগত, জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
আজ জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষ কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে যাতে ভেজাল, নিম্নমানের কিংবা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্য কিনতে বাধ্য না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, অধিদপ্তরের কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো, প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক সরঞ্জাম সংযোজন এবং প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান সেবাগুলো ধাপে ধাপে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে নরওয়ের কারিগরি সহযোগিতা চান মঈন খান
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের আকার কিংবা পরিচিতির চেয়ে মানুষের জীবনে তার কার্যক্রমের বাস্তব প্রভাব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিবেচনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দায়িত্ব ও কার্যক্রমের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামো, জনবল ও সেবা কার্যক্রম পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দেশের ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে গবেষণা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুনঃ ভূমি অফিসে হাজিরা নিশ্চিত করতে ‘ভূমি দৃষ্টি অ্যাপ’ উদ্বোধন
মন্ত্রী বলেন, গবেষণায় পাওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও জনবান্ধব করা হবে। ভোক্তারা যাতে সহজে এবং কার্যকরভাবে অধিদপ্তরের সেবা নিতে পারেন, সে জন্য শিগগিরই নতুন কিছু উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম।
সভায় অধিদপ্তরের চলমান কার্যক্রম, প্রযুক্তির ব্যবহার, জনবল কাঠামো, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং ভোক্তাদের জন্য সেবা আরও সহজ ও কার্যকর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।





