নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ হাইকমিশনে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল এবং আইওএমের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।
আলোচনায় বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া অভিবাসন করিডোরকে আরও অভিবাসীবান্ধব করতে সহযোগিতার আশ্বাস দেয় আইওএম। বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দুই পক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করে।
মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কারাগার ও ডিটেনশন সেন্টারে থাকা বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় আইনি ও কল্যাণমূলক সেবা দেওয়ার জন্য আইওএমের সহযোগিতা কামনা করা হয়। পাশাপাশি এসব বাংলাদেশির নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের, বিশেষ করে নারী ভুক্তভোগীদের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়, প্রত্যাবাসন ও প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা।
এ ছাড়া মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের ঝুঁকি এবং এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিরাপদ অভিবাসন উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও আইওএমের যৌথ উদ্যোগে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এসব কর্মসূচিতে নিয়োগকর্তা, কর্মী ও ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীদের সম্পৃক্ত করার বিষয়েও উভয় পক্ষ সম্মতি জানায়। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা ও সচেতনতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হাইকমিশনার শাহানারা মনিকা।
উল্লেখ্য, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করা, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অনিয়মিত কর্মীদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশন আইওএমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে।





