ঢাকা: মাঠপর্যায়ের ভূমি কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভূমিসেবা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও তথ্যভিত্তিক তদারকি বাড়াতে ‘ভূমি দৃষ্টি অ্যাপ’ চালু করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
আজ ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, মাঠ প্রশাসনের ভূমি কার্যালয়গুলোকে একটি অভিন্ন ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ভূমিসেবার মান উন্নয়ন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সেবাপ্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং তথ্যনির্ভর তদারকি আরও কার্যকর হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রকৃত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং ভূমিসেবা কার্যক্রমে জবাবদিহিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই প্রযুক্তিনির্ভর এই মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে নরওয়ের কারিগরি সহযোগিতা চান মঈন খান
তিনি জানান, ‘ভূমি দৃষ্টি অ্যাপ’-এ জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। নির্ধারিত কর্মস্থলের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে অবস্থান করলেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে হাজিরা দিতে পারবেন।
ইতোমধ্যে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম—এই ছয় জেলায় অ্যাপটির পাইলট কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
পাইলট প্রকল্পের আওতায় ছয় জেলার ৬১০টি কার্যালয়ের ৯১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। পাইলট কার্যক্রম থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ও ফলাফল পর্যালোচনা করে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ভূমি কার্যালয়গুলোতে এ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
কীভাবে কাজ করবে জিও-ফেন্সিং?
জিও-ফেন্সিং হচ্ছে মানচিত্রের ওপর নির্দিষ্ট কোনো এলাকার জন্য ভার্চুয়াল ভৌগোলিক সীমানা তৈরির প্রযুক্তি। ‘ভূমি দৃষ্টি অ্যাপ’-এর ক্ষেত্রে প্রতিটি ভূমি অফিসের চারপাশে নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধের একটি ভার্চুয়াল সীমানা নির্ধারণ করা থাকবে।
আরও পড়ুনঃ ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় অধিদপ্তরকে প্রযুক্তি ও জনবলে শক্তিশালী করা হবে
কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর মোবাইল ফোনের অবস্থান ওই নির্ধারিত সীমানার ভেতরে থাকলেই অ্যাপের মাধ্যমে উপস্থিতি নিবন্ধনের সুবিধা সক্রিয় হবে। ফলে কর্মস্থলের বাইরে অবস্থান করে ডিজিটাল হাজিরা দেওয়ার সুযোগ সীমিত হবে।
অনুষ্ঠানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি পাইলট কার্যক্রম চলমান ছয় জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনলাইনে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।





