বিশ্ব রোগী সুরক্ষা দিবস আজ

বিশ্ব রোগী সুরক্ষা দিবস আজ
বিশ্ব রোগী সুরক্ষা দিবস আজ

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব রোগী সুরক্ষা দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবায় রোগীর সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোই দিবসটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

রোগীদের সুরক্ষা চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করাও দিবসটির গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। চিকিৎসার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতি, অবহেলা, ভুল বা জটিলতা কমিয়ে নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর এদিন বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

যেভাবে শুরু বিশ্ব রোগী সুরক্ষা দিবস

২০১৯ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ৭২তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সমাবেশে রোগীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। একই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৭ সেপ্টেম্বরকে বিশ্ব রোগী সুরক্ষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রযুক্তি ও চিকিৎসাপদ্ধতির ব্যাপক উন্নয়ন ঘটলেও নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এখনো বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। চিকিৎসার মানের পাশাপাশি রোগীর অধিকার, মানবিক আচরণ, নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যসেবায় স্বচ্ছতার বিষয়গুলোও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতিবছর দিবসটি পালনের মাধ্যমে রোগী নিরাপত্তার বিষয়ে স্বাস্থ্যকর্মী, নীতিনির্ধারক, প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করে। রোগীর সুরক্ষা কেবল চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি নীতিগত বিষয় নয়; এটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার মৌলিক অধিকারের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

রোগীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন কেন

বিশ্বব্যাপী রোগী সুরক্ষা ব্যবস্থায় অগ্রগতি হলেও বিভিন্ন বাস্তব কারণে নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এখনো জটিল।

স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জটিলতা

বর্তমান স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় রোগী, চিকিৎসক, নার্স, অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী, প্রযুক্তি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ—সবকিছুর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। এই ব্যবস্থার জটিলতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভুল ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

সম্পদের সীমাবদ্ধতা

পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য প্রশিক্ষিত জনবল, আধুনিক সরঞ্জাম এবং প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব রোগী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথে বড় বাধা হতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে সীমিত সম্পদের কারণে নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা বাস্তবায়নে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়।

মানবিক ভুল

স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত কাজের চাপ, ক্লান্তি, মানসিক চাপ কিংবা পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ঘাটতি থেকে অনিচ্ছাকৃত ভুল হতে পারে। এ ধরনের ভুল রোগীর চিকিৎসা ও নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে।

যোগাযোগের ঘাটতি

নিরাপদ চিকিৎসাসেবার জন্য চিকিৎসক, নার্স, রোগী এবং রোগীর পরিবারের মধ্যে স্পষ্ট ও কার্যকর যোগাযোগ জরুরি। তথ্য আদান-প্রদানে ভুল বা ঘাটতি থাকলে রোগ নির্ণয়, ওষুধ প্রয়োগ, চিকিৎসা পরিকল্পনা কিংবা পরবর্তী পরিচর্যায় সমস্যা তৈরি হতে পারে।

নিরাপত্তাবান্ধব সংস্কৃতির অভাব

যে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ভুল বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে নিরাপদ ও দোষারোপমুক্তভাবে তথ্য জানানোর পরিবেশ নেই, সেখানে সমস্যাগুলো চিহ্নিত ও সংশোধন করা কঠিন হতে পারে। রোগীর নিরাপত্তাকে প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলা তাই গুরুত্বপূর্ণ।

রোগীর সুরক্ষায় সবার ভূমিকা

নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে শুধু চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব যথেষ্ট নয়। রোগী, স্বজন, চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট, স্বাস্থ্যকর্মী, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।

রোগীর পরিচয় নিশ্চিত করা, সঠিক ওষুধ ব্যবহারে সতর্ক থাকা, চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য যথাযথভাবে আদান-প্রদান করা, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে রোগী নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস তাই শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়; বরং নিরাপদ, মানসম্মত, মানবিক ও রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে নতুন করে অঙ্গীকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

ডেস্ক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।