ঢাকা: ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে হামলায় নিহত স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলতাফ হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের কার্যালয়ে নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করতে গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের এ নির্দেশ দেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
মন্ত্রী জানান, নিহত এসআই আলতাফ হোসেনের পরিবারের সহায়তায় ইতোমধ্যে পুলিশ অধিদপ্তরের কল্যাণ তহবিল থেকে ৬ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরিবারের ব্যবসা কার্যক্রম চালু রাখতে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ঋণসহ সার্বিক সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ মানবপাচার রোধে আইন প্রয়োগ ও বিচারপ্রক্রিয়া জোরদারের তাগিদ আইনমন্ত্রীর
আলতাফ হোসেনের দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা ও সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে মরণোত্তর ‘পুলিশ পদক (পিপিএম)’ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তিনি নিহতের স্ত্রী মোছা. শিউলী পারভীনের হাতে আর্থিক অনুদানের অর্থ তুলে দেন।
যেভাবে হামলার শিকার হন এসআই আলতাফ
পুলিশ ও পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী পশ্চিমপাড়ায় একটি অটোরিকশা রাখা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে হামলার শিকার হন এসআই আলতাফ হোসেন।
পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে তিনি বড় ছেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেন। অভিযোগ রয়েছে, রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি নিয়ে সেখানে হামলা চালায়।
আরও পড়ুনঃ স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে নরওয়ের কারিগরি সহযোগিতা চান মঈন খান
বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলামও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
৪০ বছরের পুলিশি কর্মজীবন
মরহুম আলতাফ হোসেন ১৯৮৬ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে কনস্টেবল হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। প্রায় চার দশকের কর্মজীবনে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), রাঙামাটি, আরআরএফ রাজশাহী, আরএমপি এবং বরিশাল জেলায় দায়িত্ব পালন করেন।
২০১১ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), ঢাকায় কর্মরত ছিলেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, বড় ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম এবং ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলামকে রেখে গেছেন। বড় ছেলে মানারাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ফার্মেসি সম্পন্ন করেছেন। ছোট ছেলে ইউসেপ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত।





