শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি, সামাজিক সংলাপ এবং শোভন কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন (আইটিইউসি) ও ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব এমপ্লয়ার্সের (আইওই) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন।
শ্রমমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শ্রমিক কল্যাণ, শোভন কাজ এবং উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শ্রমিক, নিয়োগকর্তা ও সরকারের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সংলাপ জোরদার এবং আইএলওর রোডম্যাপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনায় প্রতিনিধি দলের সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি জানান, নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ আইএলওর ১৫৫, ১৮৭ ও ১৮৯ নম্বর কনভেনশন অনুমোদন করেছে। সামাজিক সংলাপ, শ্রম বিরোধ নিষ্পত্তি এবং শ্রম প্রশাসন আরও কার্যকর করতে বিভিন্ন পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সংশোধিত শ্রম আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা প্রণয়ন সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। শ্রমিকদের জন্য নেওয়া অঙ্গীকারগুলোকে বাস্তব ও দৃশ্যমান অগ্রগতিতে রূপ দিতে হবে। শ্রমিকের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাও বাড়ানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, শিল্প খাতে শান্তি বজায় রাখা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় সংলাপ ও সামাজিক অংশীদারত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। প্রতিনিধি দলের দেওয়া পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে সরকার আগ্রহী।
সাক্ষাৎকালে আইটিইউসি ও আইওইর প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বাংলাদেশের শ্রম আইন সংশোধন, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলকে (ইপিজেড) পৃথক আইনের পরিবর্তে দেশের সার্বিক শ্রম আইনের আওতায় আনার অনুরোধ জানান তারা।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন আইটিইউসির মহাসচিব লুক ট্রায়াঙ্গল, আইওইর ভাইস-চেয়ার কাইজার মোয়ানে, আইএলও গভর্নিং বডির সদস্য জেস ভোগট এবং আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনুনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।
এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুছ সামাদ আল আজাদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





