সিলেট এমসি কলেজের সামনে স্পিডব্রেকার ও ফুটওভারব্রিজ চান শিক্ষার্থীরা

সৌরভ আহমেদ, সিলেট প্রতিনিধি: শিক্ষার্থীদের নিরাপদে যাতায়াতের স্বার্থে কলেজের উভয় ফটকের সামনে দিয়ে চলা ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে স্পিডব্রেকার ও ফুটওভারব্রিজের দাবিতে সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে এ সম্পর্কিত বিষয়ে তুমুলঝড় তুলেছেন সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের শিক্ষার্থীরা।
সিলেট তথা এ অঞ্চলের অন্যতম এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির পাশ দিয়ে বয়ে চলা ব্যস্ততম রাস্তাটিতে প্রতিনিয়ত হাজারও যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু রাস্তায় কোন ধরনের গতিরোধক না থাকার কারণে গাড়িগুলো লাগামহীন ভাবেই ছুটে চলে। আর বিকল্প কোন পথ না থাকায় উল্কাবেগে চলা এসব গাড়িগুলোর কোন এক ফাঁক দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের কলেজ যেতে হয়।

যে কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এই জায়গাগুলোতে প্রায়ই দুর্ঘটনার করুণ সব দৃশ্য দেখা যায়।এমসি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের এই দাবিটা বাস্তবায়ন করার লক্ষে গত কিছুদিন আগে বর্তমানে ক্যা¤পাসে অবস্থানকারী ২২টি সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ হন। আদর্শগত দিক থেকে প্রত্যেকে ভিন্ন দল বা মতের হলেও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দাবিটা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে সকলে একসাথে কাজ করতে এসময় তারা অঙ্গিকারবদ্ধ হন।

আর এজন্য সকলের সর্বসম্মতিক্রমে প্রথমে “এমসি কলেজের উভয় ফটকের সামনে ফুটওভারব্রিজ/গতিরোধক চাই” নামে একটি অনলাইন গ্রুপ খোলা হয়। যেখানে ঐতিহ্যবাহী এই কলেজের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সদস্য করা হয়। জানা যায়, এখন পর্যন্ত অনলাইনের এই গ্রুপটিতে পাচঁ হাজারেরও বেশি সদস্য যুক্ত করে একটি শক্তিশালী গ্রুপে রূপ দেওয়া হয়েছে। যেখানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দাবিটা বাস্তবায়নের লক্ষে এ স¤পর্কে বিভিন্ন লেখা পোস্ট করে যে যার মত করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

যাদের মানবতাবাদী লেখাগুলোর সুবাদে বর্তমানে অনলাইনের এই গ্রুপটি বিশিষ্টজনের নজড় কাড়তে সক্ষম হয়েছে।অনলাইনভিত্তিক এই গ্রুপে কনকলতা দেবনাথ নামে একজন লিখেছেন, সিলেট শহরের রাস্তা পারাপারের জন্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা হচ্ছে এমসি কলেজের সামনের রাস্তা, তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে জায়গাটিতে দ্রুত ¯িপডব্রেকার ও ফুট ওভারব্রিজ দেওয়ার জন্যে জোর দাবি জানাই। হোসাইন আহমেদ নামের আরেকজন লিখেছেন, হাজারও শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার স্বার্থে কলেজের উভয় ফটকের সামনে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় ¯পীডব্রেকার ও ফুট ওভারব্রিজ প্রয়োজন। এমসি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের এই দাবিটার দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।

সাদিকুর রহমান সাদিক নামের একজন লিখেছেন, একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না, আমার আর কোন ভাই-বোনের আহাজারি এবং মা-বাবার অশ্রুসিক্ত চোখ দেখতে চাই না। অপু তালুকদার নামে একজন লিখেছেন, আর অনলাইনে নয়, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এবার মাঠে নামতে চাই।
জান্নাতুল ফেরদৌস নামে একজন লিখেছেন, আমি নিজেও অনেকদিন গাড়ির তলায় পড়ে মরতে বসেছিলাম, সকলের দোয়ায় রক্ষা পাই, তাই দাবীটা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্যে সকলের সুদৃষ্টি কামনা করছি। সাইদুর রহমান সাহিয়ান নামে একজন লিখেছেন, আমাদের দাবী মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব, দাবী মোদের একটাই, আমাদের নিরাপত্তা দিন, নিরাপত্তা দিন।

তাপস সূত্রধর নামে একজন লিখেছেন, নিরব আন্দোলন নয়, সকলকে নিয়ে এবার মাঠে নামতে চাই। জীবন যেহেতু আমাদের, অতএব এর সুরক্ষার ব্যবস্থা ও আমাদেরকেই করতে হবে।শেখ পলাশ আহমেদ নামে একজন লিখেছেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দাবিটা এখন গণ দাবিতে রূপ নিয়েছে, তাই দ্রুত এর সমাধান চাই।

কবির আহমেদ নামের একজন লিখেছেন, দাবি মোদের একটাই, ১৪ হাজার শিক্ষার্থীর নিরাপত্তায় ¯িপডব্রেকার ও ফুটওভারব্রিজ চাই, এছাড়া ও দাবিটা আদায়ের লক্ষে গ্রুপটিতে এর সদস্যরা প্রতিনিয়তই ব্যতিক্রমী লেখা পোস্ট করে চলছেন।
যাদের মানবতাবাদী পোস্টগুলো ইতিমধ্যেই সকলের হৃদয়ে নাড়া দিতে সক্ষম হয়েছে। বিষয়টা এখন প্রতিটা অভিবাবক-শিক্ষার্থীর ভাবনার জগতে এসে পড়ছে।

দাবিটা আদায়ের লক্ষে নিয়মিত কাজ করে যাওয়া এমন কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা জানান, প্রথমে আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা চালাচ্ছি, অনলাইনের গ্রুপটির দ্বারা ইতিমধ্যেই ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াতের স্বার্থে দাবিটা আদায়ের লক্ষে কাজ করতে সবাই অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন। এসময় তারা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের এই প্রাণের দাবিটা বাস্তবায়ন করতে এমসি পরিবারের সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।এসময় তারা কিছুদিনের মধ্যে কলেজের সকল শিক্ষার্থীদের নিয়ে কর্মসূচির প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে ও জানান।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।