ভয়ে ঘুমাতে পারি না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভয়ে ঘুমাতে পারি না। লোকজন আছে। কিন্তু বিশ্বাস করার মতো কেউ নেই। সুযোগ পেলে এখানে সব পুরুষই ধর্ষক হয়ে উঠতে পারে। কেউ আছে ওঁৎ পেতে, চোখের আড়াল হলেই গায়ে দেওয়ার কম্বলটাও চুরি করবে তারা। ভয়ই জীবনের সঙ্গী। এই ভয়ই চোখের শত্রু। চোখের পাতা কখনো এক হয় না ভয়ে, আতঙ্কে।

ইরাকের বাগদাদের নারী সামাহের। তার বয়স ৩৮ বছর। মেসিডোনিয়া ও গ্রিসের সীমান্তে একটি আশ্রয়শিবিরে আছেন। সঙ্গে তার ছেলে ও বান্ধবীর মতো দুই নারী। বাগদাদ থেকে এসেছে এই চারজন। গন্তব্য অজানা। তারা শুধু জানে তারা বাঁচার জন্য এসেছে, দেশ ছেড়েছে।

বেঁচে থাকার এই লড়াই যে কতটা ভয়ংকর তা ঠিকমতো হয়তো তাদের জানা ছিল না। কিন্তু এখন তারা বুঝছে, চোখের পলকে পলকে বিদপ ঘটতে পারে। তাই তাদের চোখে ঘুম নেই।

সামাহেরের চোখের পাতা ও নিচের অংশ কালো হয়ে গেছে। বিবর্ণ মুখ তার। কথা বলতেও তার কষ্ট হয়। ক্লান্তি, শ্রান্তি তার দেহজুড়ে। তিনি বললেন, আমরা একসঙ্গে কখনো ঘুমাতে পারি না। কেউ না কেউ জেগে থাকে। বাকিরা ঘুমায়। পাহারা দেয়। আমাদের শরীর, সম্পদ সব পাহারা দিয়ে রাখতে হয়।

মেসিডোনিয়া-গ্রিস সীমান্তে ভিনোজুগ আশ্রয়শিবির থেকে তারা যেতে চায় সার্বিয়া। কিন্তু এই যাওয়া একেবারে অনিশ্চিত। সামাহের বলেন, খুব ক্লান্ত আমি। যখন আমার ঘুমের পালা আসে তখনো আমি ঘুমাতে পারি না। সবসময় ভয় কাজ করে, এ বুঝি কিছু ঘটে গেল!

সামাহেরদের আশ্রয়শিবির রাতে হিম হয়ে থাকে। তাবুর মধ্যে থাকাটাই নিরাপদ। কিন্তু তাবুর মধ্যে তারা থাকতে পারে না। কোনো পুরুষকে তারা বিশ্বাস করতে পারে না। যে কারণে খোলা জায়গায় আকাশের ছাদের নিচে থাকতে হয়। সামাহেরদের মতো হাজারো শরণার্থী ইউরোপের পথে পথে এভাবেই কষ্ট পাচ্ছে, ধুকছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।