বগুড়ার শেরপুরে মেডিল্যাব ক্লিনিকে ভূল অপারেশনে গৃহবধুর মৃত্যু

বগুড়া প্রতিনিধি: জরায়ুর সমস্যায় বগুড়ার শেরপুরে মেডিল্যাব ক্লিনিকে ভুল অপারেশনের একদিন পর মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়াইয়ে থাকা সাহেরা খাতুন (৪০) নামের এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে।

আজ ঘটনাটি ৮ জুলাই বুধবার সন্ধ্যা ৭দিকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তিকৃত অবস্থায় ঘটে।

জানা যায়, উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের চৌবাড়িয়া মধ্যপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী সাহেরা খাতুন জরায়ুর সমস্যা নিয়ে মেডিল্যাব ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিকে ৬ জুলাই সোমবার বেলা ২টার দিকে ভর্তি হয়। এরপর ওই রোগীর পরীক্ষা নিরিক্ষায় ডায়াবেটিস ধরা পরে। এদিকে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে না এনেই গত ৭ জুলাই মঙ্গলবার বিকালে অপারেশন সম্পন্ন করেন সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের অনকল সার্জন ডা. শহিদুর রহমান। রোগীকে অজ্ঞান করেন ডা. মনিরুজ্জামান স্বপন।

অপারেশনের পর রোগী সাহেরা খাতুনকে ক্লিনিকের ওয়ার্ডে নেয়া হয়। এরপর থেকেই ওই রোগীর নানা সমস্যা ও উপসর্গ দেখা দিয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে থাকে। এদিকে ওই রোগীর অবস্থার অবনতি হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ৮ জুলাই বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তড়িঘড়ি করে এ্যাম্বুলেন্স যোগে তাকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করে দায়মুক্তি হওয়ার চেষ্টা করে।

এরফলে সদ্য অপারেশন হওয়া সাহেরা খাতুন শজিমেক হাসপাতালে ভর্তিকৃত অবস্থায় মারা যায় বলে তার পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে ওই মৃত রোগীর স্বামী শফিকুল ইসলাম জানান, আমি ওই ক্লিনিকে আমার স্ত্রী ভর্তি করার পর ক্লিনিক পরিচালকদের পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর অপারেশনের কথা বলেছি, তারা রোগীর ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রনে না এনেই তড়িঘড়ি করে অপারেশন করায় এহেন পরিস্থিতি হয়েছে। ক্লিনিকে ডাক্তার থাকেনা, নার্স ও ওয়ার্ড বয় সবকিছু করেন।

এ ব্যাপারে ওই মেডিল্যাব ক্লিনিক ডায়াগনস্টিকের পরিচালক মাসুদুর রহমান জানান, রোগীর ডায়াবেটিস পাওয়া গিয়েছিল। পরে ইনসুলিন দিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করে অপারেশন করা হয়েছে। পরে তার রক্তে জন্ডিস দেখা দিলে তার অবস্থার অবনতি হলে বগুড়া মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। তবে মারা গেছে কিনা বলতে পারবো না।

এ ব্যাপারে খানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম রাঞ্জু বলেন, শেরপুরে ব্যাংঙের ছাতার মত ক্লিনিক হচ্ছে। তবে এসব ক্লিনিকে নিয়মিত কোন ডাক্তার আছে বলে জানা নেই। চৌবাড়িয়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম আমার কাছে কান্নাকাটি করায় ক্লিনিকে গিয়ে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন। তাকে সুস্থ করার জন্য ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দিয়ে এসেছি। তবে ক্ষতি হয় তাহলে এর দায়ভার ওই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকেই বহান করতে হবে।

এ ব্যাপারে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনাটি আমার জানা নাই। তবে অভিযোগ পেলে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।