ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় লাখো তরুণ স্বেচ্ছাসেবক তৈরির তাগিদ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় লাখো তরুণ স্বেচ্ছাসেবক তৈরির তাগিদ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

দেশে বিদ্যমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ও স্থায়ী নির্দেশনাতে দুর্যোগকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা ও বাধ্যবাধকতা স্পষ্ট নয় উল্লেখ করে তা দ্রুত পর্যালোচনা করার তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

তিনি বলেন, ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগে ঢাকার মতো মেগা সিটিতে শুধু জানমালের ক্ষতিই হবে না, ভেঙে পড়তে পারে পুরো দেশের সামগ্রিক সেবা ব্যবস্থা। এজন্য ঝুঁকি মোকাবেলায় লাখো তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবক দল তৈরি করতে হবে।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ‘দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন ও নগর স্বাস্থ্য’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ আরবান হেলথ নেটওয়ার্ক এই গোলটেবিলের আয়োজন করে।

সভায় আরো বক্তব্য দেন ড্যাব মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ইউনিসেফ-এর চিফ অব হেলথ ডা. মালাই আহমাদজাই প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে রানা প্লজা ট্র্যাজেডির উদাহরণ টেনে বলেন, রানা প্লজা ছিল ১০ তলা ভবন। সেই ভবন ধসের পর আমরা দেখেছি ১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং আড়াই হাজার মানুষের আহতের ভয়াবহ চিত্র। ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ মেগা সিটিতে যদি এমন ১০০ বা ২০০ ভবন ধসে পড়ে, তবে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে তা কল্পনা করাও কঠিন।

তিনি বলেন, ঢাকা দেশের ২০ কোটি মানুষের কেন্দ্রবিন্দু। ভূমিকম্পে এখানকার হাসপাতালগুলো ধসে পড়তে পারে, বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে জরুরি উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।

দুর্যোগকালীন দায়িত্বের আইনি অস্পষ্টতা দূর করার ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত বলেন, আমাদের দুর্যোগ বিষয়ক যে আইন রয়েছে, তা রিভিউ করা উচিত। এই খাতে কর্মরত আইনবিদ, জনস্বাস্থ্যবিদ এবং প্রকৌশলীরা বসে যদি আইনটি আপডেট করার সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তৈরি করেন, তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে সরকার তা বাস্তবায়নে দ্রুত উদ্যোগ নেবে।

এ সময় তিনি জরুরি চিকিৎসা পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সমাজকল্যাণ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরির ওপর তাগিদ দেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় মানসিক স্বাস্থ্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেকোনো দুর্যোগে মানুষ শুধু শারীরিকভাবেই আহত হয় না, মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এমনকি উদ্ধারকাজে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবকরাও তীব্র মানসিক ট্রমার শিকার হন। আমাদের সামগ্রিক পরিকল্পনায় এই সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলিংয়ের বিষয়টি প্রায়শই উপেক্ষিত থাকে, যা যুক্ত করা জরুরি।

ঢাকার ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় লাখ লাখ তরুণদের সম্পৃক্ত করে ‘স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী’ গঠন এবং তাদের পেশাদার প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ গবেষণা হাব হওয়ার সম্ভাবনা সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ড. মুহিত জানান, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই গাজীপুরে ‘ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ’ চালু করা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রামীণ বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে আরও বেশি ফিল্ড রিসার্চ সেন্টার গড়ে তোলা দরকার। এর ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একটি ‘হাব’ হয়ে উঠতে পারে এবং অন্যান্য দেশ আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
ACP
লেখক / প্রতিবেদক

ACP

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।