ভিকারুন্নেসার ছাত্রী অরিত্রীর আত্মহত্যার এক বছর। ৩০৫ ধারায় অভিযোগে জামিনে শিক্ষক

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার এক বছর আজ। বাবা মাকে অপমানের ক্ষোভে গতবছর ৩রা ডিসেম্বর রাজধানীর অভিজাত ভিকারুননিসা নূন স্কুলের (মূল শাখা) নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারী আত্মহত্যা করে। তার আগের দিন পরীক্ষায় নকল করার অভিযোগে তাকে পরীক্ষা হল থেকে বের করে দিয়েছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, ২ ডিসেম্বর স্কুলে পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষকরা অরিত্রীর কাছে মোবাইল ফোন পান। মোবাইলে নকল করার অভিযোগে অরিত্রীর মা-বাবাকে নিয়ে স্কুলে যেতে বলা হয়। এরপর অরিত্রীর বাবা মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে স্কুলে গেলে ভাইস প্রিন্সিপাল তাদের অপমান করে কক্ষ থেকে বের করে দেন এবং মেয়েকে টিসি (স্কুল থেকে দেওয়া ছাড়পত্র) নিয়ে যেতে বলেন। পরে প্রিন্সিপালের কক্ষে গেলে তিনিও একই রকম আচরণ করেন। এসময় অরিত্রী দ্রুত প্রিন্সিপালের কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। এরপর অরিত্রীর বাবা-মা বাসায় গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় অরিত্রীর লাশ দেখতে পান। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা অরিত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন।

অরিত্রীর আত্মহত্যার পর তার সহপাঠিদের বিক্ষোভে নামে,৪ ডিসেম্বর তার বাবা দিলীপ অধিকারী আত্মহননে প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন- ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস,শাখা প্রধান জিন্নাত আরা ও শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনা।

ওই মামলায় অরিত্রীর শিক্ষকদের পুলিশ গ্রেপ্তারও করলেও পরে তারা জামিন পান। গত ২৮ মার্চ নাজনীন ও জিনাতকে আসামি করে মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা। ৩নং আসামিকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৫ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। এই ধারায় মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়াও মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে অরিত্রীর বিষয়ে একটি রীট মামলা বিচারাধীন রয়েছে। যেখানে এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা আর না ঘটে এ বিষয়ে প্রত্যেক স্কুলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থা গ্রহন করতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

অরিত্রী অধিকারী আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা নং-৯৬২০/১৯,যা বর্তমানে ঢাকা মহানগর তৃতীয় অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন আছে। ইতিমধ্যেই বাদী ও অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী উক্ত্ মামলায় সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। পরবর্তী তাং ৩/২/২০ ইং বলে জানায় অরিত্রীর মামাতো ভাই ব্যারিস্টার সৌমিত্র সরদার।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Biswajit Shil
সংবাদ প্রতিনিধি

Biswajit Shil

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।