সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় মাজার ও মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রাসেল আহমদ (২৩) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের চকের বাজার এলাকার হযরত শাহ তৈয়ব ছৈলানি (রহ.) মসজিদ ও ঈদগাহের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত রাসেল আহমদ ওই এলাকার শারুক মিয়ার ছেলে। তাঁর মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হযরত শাহ তৈয়ব ছৈলানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা নিয়ে সিলামের শেখপাড়া গ্রামের দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। জুমার নামাজের পর দুই পক্ষের লোকজন মসজিদে উপস্থিত হলে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।
পরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে রাসেল আহমদ নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত ২২ আগস্ট একই বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। ওই ঘটনায় পুলিশসহ প্রায় ৩০ জন আহত হন বলে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থল মোগলাবাজার থানার আওতাধীন। সেখানে মোগলাবাজার থানার পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ সুরমা থানারও সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
মোগলাবাজার থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, জুমার নামাজের পর দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এলাকার পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনার জন্য গত ২৯ জুলাই ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়াকফ প্রশাসন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিককে সভাপতি এবং দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সহসভাপতি করে নয় সদস্যের একটি কমিটি অনুমোদন করে। কমিটিতে মোতাওয়াল্লির দায়িত্ব দেওয়া হয় ফজলু মিয়াকে।
এরপর কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শাহ আব্দুল মান্নান হাইকোর্টে রিট করেন। ১৬ আগস্ট শুনানি শেষে হাইকোর্ট নতুন অনুমোদিত কমিটি বহাল রাখেন। তবে সাময়িকভাবে মোতাওয়াল্লি ফজলু মিয়ার কার্যক্রম স্থগিত করে আবেদ রাজাকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা চলছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।





