ভারতের কাছে গোলামি থেকে আসল স্বাধীনতা

ভারতের কাছে গোলামি থেকে আসল স্বাধীনতা

স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর বাংলাদেশে স্বাধীনতার কোন অস্তিত্ব নেই। এ জাতি কত নিমকহারাম যে স্বাধীনতার জন্য ৩০লক্ষ মায়ের বুক খালি হলো আড়াই লক্ষ মা-বোন সম্ভ্রম হারালো সে জাতি এখন বলছে ৭১ এর স্বাধীনতা ছিল ভারতের কাছে গোলামির স্বাধীনতা। আর ৪৭এর স্বাধীনতার পর ২৪শে একটি রাজনৈতিক দলের সরকার পতনের পর যে তথাকথিত স্বাধীনতা এসেছে সে স্বাধীনতা নাকি বাংলাদেশের আসল স্বাধীনতা।

৪৭ সনে ভারতও স্বাধীনতা পেয়েছিল। অথচ ভারত আজ জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসনে অধিষ্ঠিত। দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে বিভাজিত মুসলিম পাকিস্তান ৪৭এর পর ৭১এ ভেঙে হয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই বাংলাদেশ ইসলামি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ইসলামের খেলাফত কায়েমে নুতন স্বাধীনতা কায়েম করেছে। ঠিক একই ভাবে পাকিস্তান আবারও ভেঙে বালুচিস্তান নামে আরও একটি দেশ হতে চলেছে।

হিন্দু-মুসলমানের মিলিত রক্তস্রোত সাতরে যে দেশ স্বাধীন হল সে দেশ আবার পাকিস্তানি ভাব ধারায় মিলিত হবে জানলে মুক্তিযুদ্ধে যেতাম না। ভারত যেদিন স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল সেদিন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ভারতীয় লোকসভায় দাঁড়িয়ে একটি আবেগময় বক্তৃতা দিয়েছিলেন। তার জবাবে তৎকালীন বিরোধী দলীয় প্রয়াত জনসংঘ তথা (বর্তমান বিজেপি) নেতা অটল বিহারি বাজপেয়ী বাংলাদেশের অভ্যুদয়কে স্বাগত জানিয়ে কিঞ্চিৎ বিদ্রুপের সুরে ইন্দিরা গান্ধীকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, আপনার বাবা জওহরলাল নেহেরু একটি পাকিস্তান তৈরিতে সহযোগিতা করেছিলেন আর আপনি দুটি পাকিস্তান তৈরিতে সহযোগিতা করলেন। আপনাকে অভিনন্দন। সেদিন অটল বিহারি বাজপেয়ীর কথা অনেকের ভাল লাগেনি। তিনি একটি সাম্প্রদায়িক দলের নেতা ছিলেন বলেই এমনটা মনে হয়েছিল। আজ ভবিষ্যৎ স্বপ্নদ্রষ্টা বাজপেয়ীর কথা অক্ষরে অক্ষরে মিলে গিয়েছে। তাই স্বাধীনতা দিবসের দীর্ঘ ৫৩ বছরেও এই হৃদয়ের রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়নি।

গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল। কত মায়ের বুক খালি হয়েছিল কত নারী তার সম্ভ্রম হারিয়েছিল কত পরিবার সর্বশান্ত হয়েছে এই স্বাধীনতার জন্য ইতিহাস তার স্বাক্ষী। যুদ্ধজয়ের উন্মাদনা নতুন দেশ, নতুন পতাকা, নতুন জাতীয় সংগীত, পাওয়ার উত্তেজনায় আমরা তখন আবেগ উচ্ছাসের জোয়ারে ভাসছিলাম। কত আশা ছিল দেশটি হবে অসাম্প্রদায়িক কিন্তু হল ধর্ম ভিত্তিক জাতীয়তা যা পাকিস্তানি ভাবধারার আরেক রূপ। কথা ছিল ধর্ম হবে ব্যক্তিগত সম্পত্তি। কিন্তু হল রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি।

ইসলাম ধর্মকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসাবে সংবিধানের স্থান দেয়া হলো। যা পাকিস্তানিরাও এমন দুঃসাহস দেখাতে পারেনি। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সবুজের মধ্যে লাল সূর্য খচিত পতাকা এখন আর সব প্রতিষ্ঠানে উত্তোলিত হয় না। এই পতাকা পাল্টে দিতে চায়। এই বিজয় কি আমারা চেয়েছিলাম?

 জাতীয় সংগীত আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় এখন আর ভালবাসি না। কারন এই সংগীত দেশের কোন কবি রচনা করেনি বলে। রচনা করেছে একজন বিধর্মী। গানের কথায় নাকি অভিন্ন বাংলার প্রতি ভালবাসা দেখানো হয়েছে বাংলাদেশের প্রতি নয়। বাংলাদেশ ৩০লক্ষ শহীদের আত্মদানে আসেনি। স্বাধীনতা এসেছে আল্লাহর মেহেরবানিতে। বাঙালির আত্মপরিচয়ের সংকট এখন ইসলামি ভাবধারায় বিলিত হয়ে গিয়েছে। এখন আমাদের একমাত্র পরিচয় আমরা মুসলিম। আমাদের পোশাক পরিচ্ছদ আদব-কায়দা সংস্কৃতি, রাজনীতি আরবীয় ভাবধারায় লিন হয়ে গিয়েছে। রাষ্ট্রের বৃহৎ জনগোষ্ঠী দেশ-জাতি,ভাষা,সংস্কৃতি রাজনীতির ধারা সাংবিধানিক ধারার বিপরীদ ও সাংঘর্ষিক সেখানে সংহতি আশা করা যায় না। ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তা, বাঙালি জাতীয়তা এখন নির্বাসিত। হিন্দু সম্প্রদায় তাদের ধর্মীয় মতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরনে গনশ্রাদ্ধ করার অনুমতি দেয় না সরকার পাছে ইসলাম ধর্মানুভুতিতে আঘাত লাগে।

এই স্বাধীনতা চাইনি বলেই আজ আমরা দেশান্তরিত। একটি শোষনহীন দুর্নীতি মুক্ত সমাজ ব্যবস্থা চেয়েছি বলেই আজ আমরা অপাংক্তেয়। একটি সত্যিকার ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ চেয়েছি বলেই আজ আমরা সাম্প্রদায়িক। একটি জনগনতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা চেয়েছি বলেই আমরা দেশদ্রোহী। রাজাকার স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ভাবে উৎখাত চেয়েছি বলেই আমরা আজ পথহারা নিরুদিষ্ট। এই বিজয় আমাদের নয় এই বিজয় তাদের যারা মুক্তিযুদ্ধকে ধর্মের বেড়াজালে আটকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কলুষিত করছে। তাই আজ যারা মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে তারা নিরুপদ্রব নিরাপদভাবে শহীদের কাতারে তাদের নাম ছাপা হয় জাতীয় দৈনিকে।

বাংলাদেশ শুধুই একটি ভূখণ্ড বাকী সবটাই পাকিস্তানি ভাবধারায় অনুপ্রাণিত। এই বিজয়ে শানিত রক্তস্রোতের ধারা এখন আর মুক্তিযুদ্ধের বিজয়গাথার কথা বলে না। এখন আর এই বাংলাদেশকে চিনি না। ৯ মাসের জীবন বাজী রেখে যুদ্ধের দামামার সাথে এই বিজয়ের অনুভূতিকে মিলাতে পারি না। স্বপ্নে এখন আর আমার সেই আশৈশব লালিত ছায়া সুনিবিড় শস্যশ্যামলা বাংলাদেশকে খুজে পাই না। এখন আর তেপান্তরের মাঠে রাখাল আপন মনে বাসির সুর তোলে না। নদীতে নৌকার মাঝি ভাটিয়ালি গানে সুর তোলে না। সব হারিয়ে গিয়েছে ধর্মের মিথ্যা অভিজাত্যে। এই অপরিচিত বিজয় ভুলে যেতে চাই।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।