বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণকে দীর্ঘমেয়াদে সফল ও কার্যকর করতে জ্বালানি নিরাপত্তা, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সরকারের নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা।
রাজধানীর নীলক্ষেতে দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) ভবনের রুহুল কুদ্দুস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের আসন্ন এলডিসি উত্তরণ: টেকসই রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা’ শীর্ষক কৌশলগত সংলাপে এসব মতামত উঠে আসে।
আইসিএমএবির সভাপতি মো. কাওসার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, রেডিয়েন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ও আইসিএমএবির সাবেক সভাপতি মো. আবদুর রহমান খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির ডিস্টিংগুইশড ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এলডিসি উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই উত্তরণকে টেকসই ও কার্যকর করা।
তিনি বলেন, এলডিসি সুবিধা থেকে বেরিয়ে গেলে রপ্তানি, ওষুধ শিল্প এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন ধরনের প্রতিযোগিতা ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। তাই প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন করে পরিকল্পিতভাবে উত্তরণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া জরুরি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, সরকার জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি, এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ, ব্যাংকিং খাতের ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে কাজ করছে।
তিনি বলেন, নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য কোম্পানি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, আমদানি-রপ্তানি নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা দ্রুত এবং সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
সংলাপে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, এলডিসি উত্তরণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে সময়োপযোগী সংস্কার বাস্তবায়নের ওপর।
তাদের মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আর্থিক ও ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল করা, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখার মাধ্যমেই বাংলাদেশ এলডিসি-পরবর্তী বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সফলভাবে টিকে থাকতে পারবে।