পাথর শিশু প্রসব!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ১৯৫৫ সালে মা হওয়ার অনেক স্বপ্ন নিয়ে প্রথমবারের মত গর্ভবতী হন জোহরা আবুতালিব। ২৬ বছর বয়সে প্রসবের অসহনীয় যন্ত্রণায় কাতরালেও সন্তান প্রসব হয় না তার।
প্রসবের মুহূর্ত ঘনিয়ে এলে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। সেখানে অন্য এক প্রসূতিকে যন্ত্রণাকাতর অবস্থায় মারা যেতে দেখে প্রচন্ড ভয় পান জোহরা। প্রসব যন্ত্রণা নিয়েই তিনি আবার বাড়ির পথ ধরেন। বাড়ি ফিরে জোহরা টানা কয়েক দিন যন্ত্রণা সহ্য করেন। কিন্তু বাচ্চা গর্ভেই থেকে যায়। আস্তে আস্তে তার ব্যথা কমে যায় এবং গর্ভে বাচ্চার নড়াচড়াও বন্ধ হয়ে যায়।

মরোক্কোর কাসাব্লাস্কা শহরের কাছেই বসবাস জোহরা আবুতালিবের। এটিই ছিলো তার একমাত্র বাচ্চা। এরপর আর কখনো তিনি মা হতে পরেননি। সন্তান না হওয়ায় তিনটি বাচ্চা পালক নেন তিনি। পালক সন্তানেরা জোহরাকে নিজের মায়ের মতোই দেখেন। পালক সন্তানদের তিনি বিয়েও দেন। তার নাতি পুতিও রয়েছে। সন্তান ও নাতিপুতি নিয়ে বেশ ভালোই দিন কাটছিলো জোহরার।

এভাবে কেটে যায় ৪৬ বছর! ৭৫ বছর বয়সে নতুন করে আবার তার পেটে ব্যথা শুরু হয়। পালক পুত্ররা তাকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। প্রফেসর তাইবি ওয়াজ্জানি জোহরার চিকিৎসা শুরু করেন। ওয়াজ্জানি জোহরার বড় পেট দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি ভেবেছিলেন জরায়ুতে টিউমার হবে হয়ত। আর এর জন্য তিনি জোহরাকে আলট্রাস্নোগ্রাফি করতে বলেন। কিন্তু আলট্রাস্নোগ্রাফি করার পরও বড় কোনো অসুখ ধরা পড়েনি।

তখন প্রফেসর ওয়াজ্জানি জোহরাকে এমআরআই করতে বলেন। এমআরআই করার পর বোঝা গেল আসল ব্যপারটি। আর এর মাধ্যমেই জোহরার জীবনের এক লুকানো অধ্যায় প্রকাশ হয়ে পড়ে। সবাই বুঝতে পারে যে, ২৬ বছর আগের সেই সন্তান এখনো পেটে বয়ে বেড়াচ্ছেন জোহরা। পরে দীর্ঘ চার ঘণ্টা অপরেশনের পর জোহরার পেট থেকে পাথরের মতো শক্ত মৃত বাচ্চাটি বের করতে সক্ষম হন চিকিৎসকরা। পরে তারা শিশুটিকে ‘পাথরের শিশু’ বলে আখ্যায়িত করেন।

সাধারণত ৯ মাস ১০ দিন সন্তান গর্ভে ধারণ করেন নারীরা।  কিন্তু জোহরার ক্ষেত্রে ঘটলো ব্যতিক্রম। তাই ‘আশ্চর্য’ নারী জোহরা এত বছর ধরে কীভাবে সন্তান গর্ভে ধারণ করলেন? এ নিয়ে চলছে নতুন গবেষণা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।