ইসলামাবাদ: লাগামছাড়া ফি বৃদ্ধি ও ক্লাসের সময়সূচি নিয়ে প্রতিবাদ করছিলেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পাকিস্তানের সরহদ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাওয়াত ক্যাম্পাস। এর মধ্যেই ক্যাম্পাসে ঢুকে সার্ভিস পিস্তল থেকে শূন্যে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে এক পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওতে ওই সেনা কর্মকর্তাকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে এবং পরে অস্ত্র হাতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অতিরিক্ত ফি বৃদ্ধি এবং ক্লাসের সময়সূচি নিয়ে সরহদ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাওয়াত ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছিলেন একদল শিক্ষার্থী। বিক্ষোভকারীরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ফি কমানোসহ বিভিন্ন দাবি জানাচ্ছিলেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের প্রধান ড. আইনা ক্যাম্পাসে যান। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ প্রত্যাহারের অনুরোধ করলেও তাঁরা কর্মসূচি চালিয়ে যান বলে অভিযোগ।
এরপর ড. আইনা তাঁর সেনা কর্মকর্তা স্বামীকে ক্যাম্পাসে ডেকে আনেন বলে দাবি করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া নির্দেশ, নিরাপত্তায় AI ব্যবহারে জোর অমিত শাহের
লাঠি হাতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সেনাবাহিনীর পোশাক পরা এক কর্মকর্তাকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তাঁর সুনির্দিষ্ট পদমর্যাদা কর্নেল না ব্রিগেডিয়ার—তা স্পষ্ট নয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে ঢোকার পর ওই কর্মকর্তা লাঠি দিয়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আঘাত করেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর হাতাহাতি শুরু হয়।
এর মধ্যেই তিনি সার্ভিস পিস্তল বের করে শূন্যে গুলি চালান বলে অভিযোগ। পরে অস্ত্র শিক্ষার্থীদের দিকে তাক করার ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। গুলির শব্দে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীরা ছোটাছুটি শুরু করেন।
তদন্তের নির্দেশ
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পাকিস্তানে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীদের একাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
আরও পড়ুনঃ মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা: হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্সের রায় আজ
পাকিস্তানে সেনাবাহিনীকে ঘিরে নতুন বিতর্ক
সরহদ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনাকে ঘিরে পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে বালুচিস্তান, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং পাক-অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের খবর সামনে এসেছে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, স্থানীয় জনগণের ওপর চলমান দমন-পীড়নের পেছনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ভূমিকা রয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একজন সেনা কর্মকর্তার অস্ত্র প্রদর্শন ও গুলি চালানোর অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
তবে ভাইরাল ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, গুলির সঠিক সংখ্যা এবং ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন কি না—এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।




