দেশত্যাগী হিন্দুদের রক্তের ইতিহাস ১৫ই আগস্ট

দেশত্যাগী হিন্দুদের রক্তের ইতিহাস ১৫ই আগস্ট
ভারতের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল কোটি কোটি হিন্দু হতভাগ্যদের কান্না হাহাকার আর আর্তনাতের মধ্য দিয়ে। স্বাধীনতার নামে সেদিন কোটি কোটি হিন্দু ভিটেমাটি ছেড়ে সর্বস্ব হারিয়ে প্রানের ভয়ে পালিয়ে এসেছিল পূর্ব-বাংলা এবং পাকিস্তান থেকে। দেশত্যাগী কোটি কোটি হিন্দুর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভারতের এই স্বাধীনতা। তাই ১৫ই আগস্টের স্বাধীনতা দিবস দেশত্যাগী হিন্দুদের কাছে স্মৃতি মধুর বা সুখের স্মৃতি হতে পারেনা। সেই স্মৃতি ছিল হতভাগ্যদের বিপর্যয়ের এক করুন কাহিনি। এই বেদনার কথা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কেউ বুঝবে না।রক্তের আখরে অর্জিত এই স্বাধীনতায় দেশহারা সর্বত্যাগীদের অচ্যুত মনে করা হয়েছিল। যারা ভিটেমাটি ছেড়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল তাদের আত্মত্যাগের কথা ভারতের ইতিহাসে পরদেশী হিসাবে গন্য করা হয়।
সে ইতিহাস আমরা পাল্টে দিতে চাই। দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে বিভক্ত দেশের ইতিহাসে দেশত্যাগী হিন্দুদের স্বাধীনতার এতগুলো বছর পরও অস্পৃশ্য মনে করা হয়। তাদের না আছে আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার না আছে মাথা তুলে কথা বলার অধিকার। ইতিহাসের পাতা থেকে উধাও করে দেয়া হয়েছে সেই সব চক্রান্ত, বিশ্বাসঘাতকতা ও হিন্দুর প্রতি চরম অবজ্ঞার সেই সব কাহিনি। মুছে দেয়া হয়েছে হিন্দুদের প্রতারিত করা প্রবঞ্চনা করার সেই সব করুন কাহিনি। তাই দেশত্যাগী হিন্দুরা স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরও বিভ্রান্ত।
সেই দিন কংগ্রেসের নেতারা পাকিস্তানে অবস্থানরত হিন্দুদের সম্মতি নিয়ে দেশভাগ করেনি।মহাত্মা গান্ধী প্রকাশ্য সভায় বলেছিলেন”দেশকে খন্ডিত করার আগে আমাকে খন্ডিত করতে হবে”। আবার সেই গান্ধী হরিজন পত্রিকায় লিখেছিলেন,” দেশের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মতো মুসলমানদেরও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে। বছর দুই পরে সেই গান্ধী আবার হরিজন পত্রিকায় লিখেছেন,”যদি ভারতের বেশির ভাগ মুসলমান এই মত পোষণ করে যে,মুসলমানরা একটা আলাদা জাতি,যাদের সাথে হিন্দু বা অন্য জাতিগোষ্ঠীর কোন মিল নেই, তবে পৃথিবীতে এমন কোন শক্তি নেই সেই চিন্তা ভাবনা থেকে তাদের বিরত করতে পারে”।
দেশভাগ নিয়ে কংগ্রেস যখন দোলাচলে তখন গান্ধী পরিস্কার বলেছিলেন, দেশভাগ মেনে না নিলে দেশব্যাপী অরাজকতা দেখা দেবে মুসলমানরা অসন্তুষ্ট হবে এবং দেশব্যাপী দাঙ্গা শুরু হবে।হয়েছেও তাই। ক্যালকাটা কিলিং,নোয়াখালী দাঙ্গাসহ আরো অনেক লোমহর্ষক হৃদয়বিদারক ঘটনা সেদিন ঘটেছিল যা ইতিহাস সাক্ষী।
অহিংসা ও সেকুলারিজমের আড়ালে গান্ধী শুধু মুসলিম তোষন ও দেশভাগ করে ক্ষান্ত হয়নি স্বাধীনতার পরেও তার দল সেই তোষন নীতি অবলম্বন করে ভারতকে অস্তিত্ব সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। দেশভাগের প্রাক্কালে পশ্চিম পাঞ্জাবের মুসলমানরা দাঙ্গা শুরু করলে হিন্দুরা যখন উদ্বাস্তু হয়ে পূর্ব পাঞ্জাব ও দিল্লিতে আসতে শুরু করে তখন গান্ধী সেই সব বিপন্ন হিন্দুদের বলেছিল,”মুসলিমরা যদি হিন্দুদের অস্তিত্বকেও বিপন্ন করে তোলে,তবু হিন্দুদের কখনোই উচিত হবে না মুসলমানদের প্রতি ক্রোধ প্রকাশ করা। যদি তারা আমাদের সবাইকে তলোয়ার দিয়ে কেটে ফেলে, তবু আমাদের উচিত হবে বীরের মতো সেই মৃত্যুকে বরন করা। জন্ম-মৃত্যু অদৃষ্টের লিখন”।(৬/৪/১৯৪৭ তারিখের প্রদত্ত ভাষন) এই হল মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতি।
এই প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেছেন, “যাদের হত্যা করা হয়েছে তারা যদি সাহসের সাথে মৃত্যু বরন করে থাকে তবে তারা কিছুই হারায়নি,বরং কিছু অর্জন করেছে। মৃত্যুর জন্য আমাদের ভীত হওয়া উচিত নয়। প্রকৃতপক্ষে যারা হত্যা করেছে তারা তো আমাদের ভাই ছাড়া আর কেউ নয়। তারা তো আমাদেরই মুসলমান ভাই”। (Gandhi and gosse,koenraad Elat,voice of india.page-121)এই হল গান্ধীজীর তোষণ রাজনীতির দৃষ্টান্ত।
মুসলমানদের ধর্মীয় আন্দোলনে কখনো কোন হিন্দুকে নেতৃত্ব দিতে শুনেছেন ? কিন্তু ভারতে সেই কাজটি করেছিলেন গান্ধী। তিনি ছিলেন মুসলমানদের খিলাফৎ আন্দোলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। মুসলমানদের হৃদয় জয় করার জন্যই গান্ধী ও কংগ্রেস খিলাফৎ আন্দোলনের সহযোগী হয়েছিলেন।
মুসলমানরা মনে করে বিধর্মীদের ইসলামে ধর্মান্তরিত করা তাদের ধর্মীয় কর্তব্য। কিন্তু একই অধিকার যে হিন্দুদেরও আছে এ কথাটি তারা মেনে নিতে পারেনা। তাই ভারতে যেখানেই যখন কোন মুসলিম স্ব-ধর্মে ফিরতে চায় তখন বলা হয় এর পিছনে হিন্দু মৌবাদীরা জড়িত।অথচ একই কাজ মুসলমানদের জন্য পুন্যের আর হিন্দুর জন্য অপরাধের।
স্বামী শ্রদ্ধানন্দ ছিলেন ধর্মান্তরিত হিন্দুদের পুনরায় স্বধর্মে ফিরিয়ে আনার অগ্রপথিক। মুসলমানদের প্রীতিভাজন হওয়ার জন্য গান্ধী স্বামী শ্রদ্ধানন্দের শুদ্ধি আন্দোলনের তীব্র বিরোধী ছিলেন। ১৯২৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর স্বামী শ্রদ্ধানন্দ অসুস্থ্য হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছিলেন।একদিন আবদুর রশিদ নামে এক যুবক স্বামী শ্রদ্ধানন্দকে গুলি করে হত্যা করেছিল। এই হত্যাকে কংগ্রেস,খিলাফত,মুসলিম লীগ সমর্থন করেছিল। এই হত্যার ঘটনায় গান্ধী রশিদকে দোষী বলে মনে করেননি। তিনি বলেছিলেন “রশিদ আমার ভাই”। গান্ধী ও কংগ্রেস এই হত্যার নিন্দা করেনি। পক্ষান্তরে গান্ধী শ্রদ্ধানন্দের মুসলমানদের পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে আনার আন্দোলনকে সমালোচনা করে শ্রদ্ধানন্দকেই দায়ী করেছিলেন। রশিদের ফাঁসির পরে সারা ভারতের মসজিদে তার জান্নাত কামনায় নামাজ পড়া হয়েছিল। দেওবন্দ হল ভারতে ইসলামি শিক্ষা-সংস্কৃতির পীঠস্থান। আব্দুর রশিদের আত্মা যাতে বেহেশত প্রাপ্তি হয় সেজন্য দেওবন্দের ছাত্র অধ্যাপক মন্ডলী ৫বার কোরান পাঠ সম্পূর্ন করেছিল এবং প্রতিদিন ১২৫০০০ হাজার বার কোরানের আয়াত পাঠ করেছিলেন। তাদের প্রার্থনা ছিল সর্বশক্তিমান আল্লাহ এই মরহুমকে ” এ-আলা-ই-ইলীযীন সপ্তম জান্নাতের শ্রেষ্ঠ স্থান দিক। এই মহানুভব গান্ধী ফাঁসির দন্ডাদেশ প্রাপ্ত ভগৎসিং এর দন্ডাজ্ঞা মওকুফের জন্য বড়লাটকে অনুরোধ করতে অসম্মত হয়েছিলেন।অপরদিকে স্বামী শ্রদ্ধানন্দকে হত্যা করে রশিদ কোন অহিংস প্রেমপ্রীতি সহিষ্ণুতার অমর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন?
মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করেছিল নাথুরাম গডস। বিচারে তার ফাঁসি হয়েছিল। আইনের চোখে হত্যা অপরাধ সেই জন্য নাথুরাম গডস আজও অপরাধী। কিন্তু একই ধরনের অপরাধ করে রশিদ হয়েছিলেন হিরু। নাথুরাম গডসের নামে কেউ প্রশস্তি করলে তাকে হত্যার সমর্থক হিসাবে চিন্থিত করা হয়। এই তোষামোদির রাজনীতি ভারতকে তার অতীত ঐতিহ্য পরম্পরা এবং সাংস্কৃতিক বন্ধন থেকে ব্রত্য রেখেছে।
আজ সময় এসেছে দেশত্যাগী সর্বহারাদের অধিকার বুঝে নেয়ার। আমরা আর পিছু হঠতে রাজি নই। আমাদের নাগরিকত্ব আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অবশ্যই এ সরকারকে সুনিশ্চিত করতে হবে। ভারত আমাদের ধর্মভূমি ভারত আমাদের কর্মভূমি এ অধিকার আমাদের জন্মগত। পৃথিবীর সব সনাতনীদের একমাত্র নিচ্ছিদ্র নিরাপদ স্থান ভারত আমাদের মাতৃভূমি। এ অধিকার আমাদের শ্বাশত অধিকার। তাই ৭৮তম ভারতের স্বাধীনতা দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক তোষামোদির শৃঙ্খল থেকে ভারতকে মুক্ত করে যেকোনো মূল্যে ভারতকে আমরা হিন্দুরাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করবোই করবো। জয় হিন্দ।ভারত মাতা কি জয়।।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Ovi Pandey
সংবাদ প্রতিনিধি

Ovi Pandey

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।