আজ আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস, প্রতিপাদ্য ‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’

আজ আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস, প্রতিপাদ্য ‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস

আজ ১৩ অক্টোবর আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস। প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করা হয়। জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক দপ্তর (UNDRR) নির্ধারিত এবারের প্রতিপাদ্য ‘Resilience Starts at home’। এর বাংলা ভাবানুবাদ—‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’।

দিবসটি উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়ার কথা। এতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ অতিথি হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুন্সী রফিকুল আলমের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার কথা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে। জনসচেতনতা তৈরিতে টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার এবং দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে পোস্টার প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও সচেতনতার ওপর গুরুত্ব

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশকে দীর্ঘদিন ধরেই প্রকৃতির নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী অবস্থান, অসংখ্য নদ-নদী, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং বিপুল জনসংখ্যার চাপ দেশের দুর্যোগঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, ভূমিধস, অগ্নিকাণ্ড ও ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করতে আগাম প্রস্তুতি, কার্যকর সতর্কবার্তা, দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্যোগের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অন্যতম দায়িত্ব। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি বাড়ানো এবং মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতা গড়ে তোলাই দিবসটি পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

পরিবার থেকেই শুরু হোক দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি

দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত অংশগ্রহণও প্রয়োজন। ঘরে জরুরি যোগাযোগের নম্বর সংরক্ষণ, প্রাথমিক চিকিৎসার সামগ্রী প্রস্তুত রাখা, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থান জানা এবং শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি রাখা দুর্যোগের সময় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ করে উপকূলীয় ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় আগাম সতর্কবার্তা অনুসরণ, নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সমন্বয় জীবনহানি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের মূল বার্তা হলো—দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি, সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত কার্যকর প্রস্তুতি নিশ্চিত করা গেলে দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

ডেস্ক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।