সেন্টমার্টিনে পর্যটক সংখ্যা ও ভ্রমণের সময়সীমা পুনর্বিবেচনা করবে সরকার

সেন্টমার্টিনে পর্যটক সংখ্যা ও ভ্রমণের সময়সীমা পুনর্বিবেচনা করবে সরকার
সেন্টমার্টিনে পর্যটক সংখ্যা ও ভ্রমণের সময়সীমা পুনর্বিবেচনা করবে সরকার

সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটনের সময়সীমা, দৈনিক পর্যটক সংখ্যা এবং পর্যটকবাহী জাহাজ ছাড়ার স্থান পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং যাতায়াত ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সেন্টমার্টিনে পর্যটক গমন নিয়ে আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সভায় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এবং ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রেখেই পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দ্বীপের ধারণক্ষমতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং পর্যটনের কারণে সামুদ্রিক প্রতিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মতামত নিয়ে পর্যটন ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক আরও পর্যালোচনা করা হবে।

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট কেনার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে নির্ধারিত নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

দ্বীপে নিষিদ্ধ পলিথিন বহন বন্ধ, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা এবং পর্যটকদের সঙ্গে পানির ফ্লাস্ক রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।

সভায় ২০২৬–২০২৭ পর্যটন মৌসুমে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থান নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে পর্যটনের সময়সীমা, প্রতিদিনের পর্যটক সংখ্যা এবং জাহাজ চলাচলের স্থান পুনর্বিবেচনার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে বর্তমানে যেসব বিধিনিষেধ রয়েছে

২২ অক্টোবর ২০২৫ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা দিনের বেলায় সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করে একই দিনে ফিরে আসবেন। এ সময়ে দ্বীপে রাত্রিযাপনের সুযোগ নেই। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাত্রিযাপন করা যাবে। দৈনিক গড়ে সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটকের যাতায়াতের সীমা রয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ রাখার বিধানও রয়েছে।

সভায় এসব বিধান পুনর্বিবেচনার বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে পরিবর্তিত নিয়ম সম্পর্কে পরবর্তী সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা বহাল

সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবালসহ সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাগুলো বহাল থাকবে। এসব বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছে রাতে সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি ও বারবিকিউ পার্টি আয়োজন, কেয়া বনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ এবং এর ক্রয়-বিক্রয়। এ ছাড়া সৈকতে মোটরসাইকেলসহ অনুরূপ যানবাহন চালানোও নিষিদ্ধ।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধি, পর্যটন ব্যবসায়ী এবং পরিবেশ সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটন ব্যবসায়ীরাও অনলাইনে সভায় যুক্ত ছিলেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।