জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণে শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
সোমবার (১২ অক্টোবর) জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আয়োজিত ‘বিস্মৃতির বিরুদ্ধে স্মৃতি’ শীর্ষক দিনব্যাপী আর্ট ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। জাদুঘর প্রাঙ্গণে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
আর্ট ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ছাত্র-জনতা, শ্রমজীবী মানুষ, দিনমজুরসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের সম্মিলিত আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এ আন্দোলনের ইতিহাস ও স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে শিল্পীদের সৃজনশীল কাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শিল্পকর্মে উঠে আসছে গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস
প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর নিয়মিত কার্যক্রমের বাইরে গিয়ে চিত্রশিল্পীদের অংশগ্রহণে আর্ট ক্যাম্প আয়োজন করে প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
তিনি বলেন, শিল্পীরা জাদুঘর প্রাঙ্গণে গণঅভ্যুত্থানের নানা দিক নিয়ে ছবি আঁকছেন। দর্শনার্থীরা এসব শিল্পকর্ম দেখার পাশাপাশি শহীদদের আত্মত্যাগের বিষয়েও জানতে পারছেন। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ শিল্পকর্মগুলো সংরক্ষণ করবে।
জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতিচর্চার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, এই আর্ট ক্যাম্প সেই ভাবনাকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে।
বিস্মৃতির বিরুদ্ধে স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ বলেন, বর্তমানে যে স্থানে আর্ট ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেটি একসময় স্বৈরাচারী সরকারের কার্যক্রম পরিচালনার কেন্দ্র ছিল। ফ্যাসিবাদের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত এ স্থানে শিল্পকর্মের আয়োজন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে শিল্প-সাহিত্যকে ব্যবহার করে নাগরিকদের অধিকার ও বাস্তবতা ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দেখিয়েছে, নানা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না।
এহসান মাহমুদ আরও বলেন, গত ১৬ বছরে শিল্প-সাহিত্যের মাধ্যমে নাগরিকদের অনেক কিছু ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা হয়েছে। সেই বিস্মৃতির বিপরীতে ইতিহাস ও স্মৃতি ধরে রাখার লক্ষ্যেই ‘বিস্মৃতির বিরুদ্ধে স্মৃতি’ শীর্ষক এ আয়োজন।
আর্ট ক্যাম্পে অংশ নিয়েছেন যেসব শিল্পী
দিনব্যাপী এ আর্ট ক্যাম্পে অংশ নেওয়া শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন নাসিম আহমেদ নাদভী, নাইমা হক, সামিয়া আফরিন, জয়তু চাকমা, এ. সেন, ইমাম হোসেন, নাজিয়া আন্দালীব প্রমা, কাজী সালাউদ্দীন আহমেদ, খন্দকার নাছির আহম্মদ, আব্দুল হালিম চঞ্চল, তামান্না লিজা, অমল আকাশ, মোস্তফা জামান, মোস্তাফিজুল হক, ফারজানা আহমেদ উমা, সৈয়দ জাহিদ ইকবাল, ফারিয়া খানম, মো. আরমান চৌধুরী, নাজমুন নাহার পায়া, সুমন হালদার, মোমিন মুক্তার ও জাফরিন গুলশানসহ অনেকে।





