ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, বাংলাদেশে অসংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক ব্যবহারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই। নতুন প্রজন্মকে নিকোটিনের ক্ষতিকর ছোবল ও আসক্তি থেকে দূরে রাখতে প্রয়োজনীয় আইনগত সংস্কার ও কৌশলগত নীতি বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
আজ রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ঢাকা আহছানিয়া মিশন আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬ ও পরবর্তী করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের সঠিক সামাজিক ও নৈতিক পথে পরিচালিত করতে কেবল আইন প্রণয়ন করে বা সরকারের একক প্রচেষ্টায় সমাজের এই অবক্ষয় ঠেকানো সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা ও গণজাগরণ।
তরুণ সমাজের বর্তমান লাইফস্টাইল ও সামাজিক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উল্লেখ করেন, আশির দশকে তরুণরা সন্ধ্যার পরেই ঘরে ফিরত, অথচ বর্তমানে অনেককে গভীর রাত পর্যন্ত বাইরে অযথা সময় কাটাতে দেখা যায়।
আইন দিয়ে এই চলাফেরা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলেও সমাজকে মাদকমুক্ত রাখার স্বার্থে সবাইকে সম্মিলিতভাবে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
প্রকাশ্যে ই-সিগারেট ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও মুনাফালোভী গোষ্ঠী অধিক লাভের আশায় চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তরুণদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এসব অসাধু উৎপাদক, আমদানিকারক ও বিপণনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তামাক চাষ কমাতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কৃষকদের বাঁচাতে এবং বিকল্প অর্থকরী ফসলে আকৃষ্ট করতে পার্বত্য অঞ্চলে তামাক চাষিদের প্রণোদনা দিয়ে তুলা চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে রোগ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে (প্রিভেন্টিভ কেয়ার) গতিশীল করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক আখতার-উজ-জামান। সভায় মিশন ও ইয়ুথ ফোরামের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।





