সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ জেলার দিরাইয়ের জনসভায় সুরঞ্জিত সেনের ওপর গ্রেনেড হামলার মামলায় ১২ বছর পর সিলেটের বরখাস্ত হওয়া মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জের বরখাস্ত হওয়া মেয়র জি কে গউছকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় সুনামগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সালেহ এ আদেশ দেন। দুজনকে জামিন এবং গ্রেপ্তার দেখানো বিষয়ে আদালতে হাজির করা হয়েছিল।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আরিফুল হক চৌধুরী ও জি কে গউছকে অভিযুক্ত করে গ্রেপ্তার দেখাতে ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই হবিগঞ্জ জোনের সহকারী পুলিশ সুপার বসুদত্ত চাকমা ১৩ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আবেদনে আরিফুল হক চৌধুরী ও জি কে গউছকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং আসামিপক্ষের জামিনের আবেদন নাকচ করে আসামিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
২০০৪ সালের ২১ জুন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সভা চলার সময় মঞ্চের পাশে গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়। এই হামলায় যুবলীগকর্মী নিহত হন এবং ২৯ জন আহত হন। ওই দিন উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে দিরাই থানায় মামলা দায়ের করেন।
আরিফুল হকের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট শহিদুজ্জামান চৌধুরী, অ্যাডভোকেট ফজলুল হক আছপিয়া, অ্যাভোকেট আবদুল হক, অ্যাডভোকেট শেরেনূর আলী ও অ্যাডভোকেট মল্লিক মোহাম্মদ মইন উদ্দিন।
রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে অংশ নেন, অ্যাডভোকেট শহিদুল হাসমত খোকন, অ্যাডভোকেট জুয়েল মিয়া নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মণিষ কান্তি দে মিন্টু, অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শহিদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘মামলার ১২ বছর পর দুজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধিকে নতুন করে আসামি করে গ্রেপ্তার দেখানো সম্পূর্ণ আইনের পরিপন্থী ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শহিদুল হাসমত খোকন বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর মামলা। মামলার সব তদন্ত শেষে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এ কারণে আরিফুল হক চৌধুরী ও জি কে গউছকে গ্রেপ্তারের আবেদনে আদালত তাঁদের দুজনের জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অ্যাডভোকেট জুয়েল মিয়া জানান, মামলার ১৩ আসামিরা হলেন হাফেজ মাওলানা মুফতি আবদুল হান্নান মুন্সী, শরিফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল, হাফেজ সৈয়দ নাঈম আহমেদ আরিফ, মহিবউল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, মুফতি মাঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, মো. দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপন, নাজিউর রহমান ওরফে নাজু ওরফে নাজমুল হক, মাওলানা শেখ আবদুল সালাম, আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে ইফসুফ ভাট, লুৎফুজ্জামান বাবর, গোলাম কিবরিয়া (জি কে) গউছ, আরিফুল হক চৌধুরী ও মাওলানা মো. তাজ উদ্দীন।
জুয়েল মিয়া জানান, এই একই মামলায় প্রথম সাত আসামি কারাগারে রয়েছেন। বাকি তিনজন মাওলানা শেখ আব্দুল সালাম, আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে ইউসুফ ভাট ও লুৎফুজ্জামান বাবর কারাগারে থাকলেও এই মামলায় এখনো গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। মামলার ১৩ নম্বর আসামি মাওলানা তাজ উদ্দিন পলাতক।


