রংপুরের হত্যাকাণ্ডে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ-অস্থিরতা

রংপুরের হত্যাকাণ্ডে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ-অস্থিরতা
হিন্দুদের মধ্যে নুতন করে অস্থিরতা

রংপুরের একটি হিন্দু পরিবার এক রাতেই সব শেষ। অবসর প্রাপ্ত জেলা স্কুলের শিক্ষক গনপতি চক্রবর্তী জুয়েল(৬৫) তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা(৫০)মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫)এবং ছোট ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী(১২) তাদের হত্যা করা হয়েছে নৃশংস ভাবে। শিক্ষকের লাশ পড়েছিল বাড়ির ছাদে স্ত্রী-মেয়ে সিড়িতে আর ছেলে খাটের নীচে। সম্ভবত ছোট ছেলেটা বাঁচতে খাটের নীচে লুকিয়ে ছিল সেখানেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। রংপুরের এই হত্যার ঘটনাটি হিন্দুদের মধ্যে নুতন করে উদ্বেগ-অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। ডাকাতি করতে এসে একটি হিন্দু পরিবারের সবাইকে নৃশংস ভাবে হত্যা করে চলে যাবে কেন যদি না কোন দুরভিসন্ধি থাকবে?

এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে রয়েছে হিন্দুদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা। ইতিমধ্যে রংপুরে রামমূর্তি নির্মানকে কেন্দ্র করে একটা অস্থিরতা তৈরি করে রেখেছে একটি চিহ্নিত মহল তার উপর একটি পরিবারের সবাইকে হত্যার ঘটনা নিশ্চিত ভাবেই হিন্দুদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনা আবার প্রমাণ করলো বাংলাদেশ হিন্দুদের জন্য আর নিরাপদ নয়। নইলে ডাকাতি করতে এসে পরিবারের সবাইকে এমন ভাবে হত্যা করা কি সম্ভব?

পুলিশ যে দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছে, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। বছর চারেক আগে রংপুর মহানগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাছুয়াপাড়া এলাকায় গণপতি চক্রবর্তী যখন তিনতলা বাসভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন, তখন থেকে স্থানীয় এক প্রভাবশালী দুর্বৃত্ত ভীষণ ঝামেলা শুরু করেছিল। গণপতি চক্রবর্তী মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আপসরফা করে বাড়ি নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছিলেন। হতে পারে সেই দুর্বৃত্তই এখন গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারটিকে শেষ করে দিয়ে, বাড়িটি গ্রাস করতে চায়। হয়তো সেই প্রভাবশালীকে আড়াল করার জন্য—ওপরের চাপে পুলিশ মিথ্যা গল্পের অবতারণা করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য কোনোদিনই উদ্ঘাটিত হবে বলে মনে হয় না। ঘটনার পর ঘটনা ঘটতে থাকবে, আর মানুষ একে একে সব ঘটনাই ভুলে যাবে।

রংপুরের স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, গণপতি চক্রবর্তীকে সপরিবারে হত্যার পেছনে রয়েছে বিএনপি ও নব্য জেএমবির যৌথ ষড়যন্ত্র। যেখানে একটি সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে, ফাঁসানো হয়েছে প্রতিবেশী দুটি হিন্দু ছেলেকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গণপতি চক্রবর্তীকে সপরিবারে হত্যার উদ্দেশ্যে আগত মৌলবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দেখে ফেলেছিল প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস (২৩) ও মুগ্ধ দাস (১৯)। এটাই কাল হয়ে দাঁড়ায়। পুলিশ এই দুই যুবককে তুলে নিয়ে যায়। এদের একজন খালি গায়ে ছিল, তার গায়ে পরিয়ে দেওয়া হয় পুলিশের ব্যবহৃত একটি জামা।

২১ আগস্ট রাতে যে শার্ট পড়ে পুলিশ আসামী খুঁজছে সেই শার্ট ২২ আগস্ট দেখা যাচ্ছে আসামীর গায়ে। রংপুরে একই পরিবারের চারজন হত্যায় প্রশাসনের নাটকীয়তা যেন শেষ হচ্ছে নাহ। কি এমন চাপা দিতে পুলিশ এসব নাটক সাজাচ্ছে জাতি জানতে চায়। এটা কি পরিকল্পিত সংখ্যালঘু নিধন কর্মসূচি যার স্পন্সর রাষ্ট্র নিজেই ?

ঊল্লেখয়, ২১ আগস্ট রাতে যে শার্ট পড়ে পুলিশ আসামী খুঁজছে সেই শার্ট ২২ আগস্ট দেখা যাচ্ছে আসামীর গায়ে। রংপুরে একই পরিবারের চারজন হত্যায় প্রশাসনের নাটকীয়তা যেন শেষ হচ্ছে নাহ। কি এমন চাপা দিতে পুলিশ এসব নাটক সাজাচ্ছে জাতি জানতে চায়।

​সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর পরিবারকে পুলিশ ভয় দেখিয়েছে, যদি তারা মুখ খোলে—তাহলে ওই নিরীহ হিন্দু ছেলে দুটোকে ক্রসফায়ার দেওয়া হবে। পুলিশ সূত্রে এই সংবাদ রংপুরের সাংবাদিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে, কিন্তু কেউই ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।

​সম্প্রতি জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়েছে যে, বাংলাদেশে চরমপন্থী ইসলামী শক্তির উত্থান ঘটেছে। এই উগ্রবাদী শক্তিকে মদত দিচ্ছে বিএনপি সরকার।

স্মরণ করা যেতে পারে (২০০১-০৬) মেয়াদের বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে বাগেরহাটে ঠাকুরবাড়িতে সেই মধ্যযুগীয় নৃশংসতার কথা। এছাড়াও সেই সময়কার চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাধন শীলের পুরো পরিবারের ১১ জন সদস্যকে রাতের অন্ধকারে ঘরের মধ্যে আটকে একসঙ্গে পুড়িয়ে মারার মর্মান্তিক ঘটনার কথা নিশ্চয়ই অনেকের মনে আছে।

​আন্তর্জাতিক শক্তি বিশেষ করে আমেরিকা এবং দাতাগোষ্ঠী যেমন—জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি বিএনপি সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি না করে, তাহলে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুরা অস্তিত্ব সংকটে পড়ে যেতে পারে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
সংবাদ প্রতিনিধি

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।