ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির যৌথ অভিযানে সনদবিহীন দন্ত চিকিৎসালয়, অবৈধ বিদেশি সিগারেট ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রিসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুই মাদকসেবীকে তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে কালীগঞ্জের সনদবিহীন দন্ত চিকিৎসালয় ফিরোজ ডেন্টালে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
পাশাপাশি আগামী ১০ দিনের মধ্যে বিডিএস ডিগ্রিধারী দন্ত চিকিৎসক নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চিকিৎসক নিয়োগ না দিলে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হবে বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে আগামী ১০ দিন প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার মেসার্স আনিসুর রহমান স্টোরে অভিযান চালিয়ে প্রচুর পরিমাণ অবৈধ বিদেশি সিগারেট, মাদকসংশ্লিষ্ট নিষিদ্ধ দ্রব্যাদি ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য পাওয়া যায়। উদ্ধার করা অবৈধ বিদেশি সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫০ হাজার টাকা। এসব অনিয়মের দায়ে দোকান মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে জব্দ করা মালামাল জনসমক্ষে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানের সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মাদক সেবনের দায়ে দুই ব্যক্তিকে তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, কালীগঞ্জ মেইন বাজারের একটি কসমেটিকসের দোকানে বিদেশি প্রসাধনী পণ্যের মোড়কে আমদানিকারকের নাম, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও মূল্য উল্লেখ না থাকায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এদিকে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুকুরের কামড়ের চিকিৎসার জন্য ২০০ ভায়াল অ্যান্টির্যাবিস ভ্যাকসিন এবং সাপের কামড়ের চিকিৎসার জন্য ১৬ ভায়াল অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করা এবং মাদক ও অবৈধ পণ্যের বিস্তার রোধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সনদবিহীনভাবে চিকিৎসাসেবা প্রদান, অবৈধ পণ্য বিক্রি, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ কিংবা মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার জন্য ব্যবসায়ী ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির যৌথ অভিযানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শান্তনু ঘোষ, কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস দল, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ, ঝিনাইদহের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মিরাজুল ইসলাম তালুকদার ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, ঝিনাইদহের একটি দল উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা করেন।





