জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, প্রতিটি শিশুর শৈশব নিরাপদ ও সুরক্ষিত হওয়া প্রয়োজন। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে শিশুরা নিজেদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে সফল হতে পারবে।
শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, প্রতিটি শিশুর মধ্যেই অসীম সম্ভাবনা ও প্রতিভা রয়েছে। সেই প্রতিভার বিকাশে শিশুদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ, শিক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ তৈরি করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা, শিশু ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিশু-কিশোরদের শুভেচ্ছা জানান ডা. জুবাইদা রহমান।
তিনি বলেন, ৫০ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিশুদের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন প্রতিকূলতা পেরিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ দশক ধরে শিশুদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, শিশু একাডেমির বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ছবি আঁকা, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও সাহিত্যচর্চায় অসংখ্য শিশু-কিশোর নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পেয়েছে। শিশুদের সৃজনশীলতা ও মেধা বিকাশে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
শিশুদের অধিকার ও শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা এবং মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমিকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের কাছেও পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে শিশু একাডেমিকে শিশুদের স্বপ্ন, মেধা ও প্রতিভা বিকাশের আরও কার্যকর কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সব বাধা অতিক্রম করে তাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং নিজেদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি শিশুর মধ্যেই সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে নতুন উদ্যম ও উদ্যোগে শিশুরা সফলতার পথে এগিয়ে যাবে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, প্রতিটি শিশুর শৈশব নিরাপদ হোক এবং তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হোক—এটাই সবার প্রত্যাশা।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে পৌঁছালে ১৫০ শিশু তাদের স্বাগত জানায়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
আলোচনা সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। পরে তারা শিশুদের আঁকা ছবি নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনী ও আলোকচিত্র গ্যালারি পরিদর্শন করেন।





