কমলনগরে ইজারা নিয়েও আতঙ্কে ব্যবসায়ী: সাবেক টোল আদায়কারী ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

কমলনগরে ইজারা নিয়েও আতঙ্কে ব্যবসায়ী: সাবেক টোল আদায়কারী ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ
সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মাতব্বর হাটে বৈধভাবে ইজারা নেওয়ার পরও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ইজারাদার মুক্তার হোসেন। সাবেক টোল আদায়কারী ও একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি ও ঘাট পরিচালনায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে নিয়ম মেনে মাতব্বর হাট ঘাট ইজারা নেন মুক্তার হোসেন। তবে ইজারা পাওয়ার পর থেকেই একটি পক্ষ ঘাটের নিয়ন্ত্রণ দাবি করে তার কাছে চাঁদা দাবি করছে বলে অভিযোগ তার। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্নভাবে হয়রানি, ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মুক্তার হোসেনের অভিযোগ, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল নিজেদের বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে পরিচয় দিয়ে ঘাটের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তাদের বাধার কারণে ইজারার মেয়াদের এক বছর হলেও গত দুই মাস ধরে তিনি ঘাট থেকে কোনো টোল আদায় করতে পারেননি।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর ফোর্ড অফিসার শাহ আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে একটি কাগজ নিয়ে তিনি অনুমতি সাপেক্ষে প্রায় এক মাস টোল আদায় করেছিলেন। পরে বিভাগীয় কমিশনারের ইজারাদার মুক্তার হোসেন হাইকোর্টে রিট করে টোল আদায়ের আদেশ পান। হাইকোর্টের আদেশকে সম্মান জানিয়ে তিনি তার অফিসের স্টাফদের নিয়ে সেখান থেকে চলে এসেছেন বলেও জানান শাহ আলম।
এদিকে ইজারাদার মুক্তার হোসেন বলেন, “আমি একজন নিরীহ ও অসহায় সামাজিক মানুষ। সরকারি নিয়মে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে ইজারা নিয়েছি। অথচ ইজারা পাওয়ার পর থেকেই একটি মহল আমাকে নানা ধরনের হুমকি-ধমকি ও হয়রানি করছে। তাদের চাঁদা না দেওয়ায় বিভিন্ন গণমাধ্যমকেও ব্যবহার করে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে যদি কেউ ঘাট ইজারা নিয়ে থাকেন, তাহলে তারা কীভাবে আমাকে বাধা দিচ্ছেন, সেটিই আমার প্রশ্ন। আমি বৈধ ইজারা নিয়ে প্রায় দুই মাস ঘাটের টোল আদায় করতে পারিনি। এখন আইনি প্রক্রিয়ায় এই দুই মাসের ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে নেব, তা নিয়ে আমি হতাশায় আছি।”
মুক্তার হোসেনের দাবি, মাতব্বর হাটে বর্তমানে নিয়মিত কোনো লঞ্চ, ফেরি বা পল্টন চলাচল করে না। একই পরিস্থিতি নবীগঞ্জ ও মতির হাটের ক্ষেত্রেও রয়েছে। তারপরও একটি মহল নিজেদের বিআইডব্লিউটিএর ঘাট দাবি করে তার বৈধ ইজারার কাজে বাধা দিচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, কমলনগর উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত একটি প্রভাবশালী মহলের দাপটে সাধারণ মানুষ অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ইজারাদারকে হয়রানি করা হলে ঘাটের স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে বৈধ ইজারা নেওয়ার পরও যদি একজন ইজারাদার নিরাপত্তা না পান, তাহলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা কোথায়?
অবিলম্বে অভিযোগগুলো তদন্ত করে চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ঘাটের ইজারা ও টোল আদায় নিয়ে সৃষ্ট জটিলতারও প্রশাসনিকভাবে দ্রুত সমাধান দাবি করেছেন তারা। অন্যথায় যে কোনো সময় এলাকায় বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
ACP
লেখক / প্রতিবেদক

ACP

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।