রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একদিনে সাতটি পৃথক স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মালিবাগ, মহাখালী, আগারগাঁও, যাত্রাবাড়ী, বাবুবাজার, মগবাজার ও রামপুরায় এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এর মধ্যে যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণে ইবাদুর রহমান (২৬) নামে এক ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক আহত হয়েছেন। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একই দিনে রাজধানীর কাফরুল এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় বাসটিতে কোনো যাত্রী ছিলেন না।
মালিবাগে পরপর বিস্ফোরণ
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর মালিবাগের ফরচুন শপিং মলের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। একই সময় মালিবাগ রেলক্রসিংয়ের পাশে সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারের কাছে আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরণের তথ্য পাওয়া যায়।
এসব ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
মহাখালী ও আগারগাঁওয়ে বিস্ফোরণ
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মহাখালী ও আগারগাঁওয়ে পৃথক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মহাখালীতে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। একই সময়ে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বেতার ভবনের কাছাকাছি সড়কে আরেকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুনঃ ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা নিয়ে ভারতের অবস্থান, ‘জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’
যাত্রাবাড়ীতে আহত রিকশাচালক
রাত পৌনে ৮টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে চারটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ইবাদুর রহমান নামে এক ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক আহত হন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, আহত ব্যক্তির কোমরের পেছনের দিকে স্প্লিন্টারের আঘাত রয়েছে। তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বাবুবাজার, মগবাজার ও রামপুরাতেও বিস্ফোরণ
রাত ৮টার দিকে বাবুবাজার সেতুর নিচে একটি মাজারের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপর রাত সোয়া ৯টার দিকে মগবাজার চৌরাস্তা জামে মসজিদের পাশে আরেকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়।
রাত ১১টার দিকে রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনের বিপরীত পাশের সড়কে জোড়া ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
কাফরুলে বাসে আগুন
এদিকে রাত ১০টা ১৪ মিনিটের দিকে কাফরুল থানার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মিরপুর সুপার লিংক পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। ঘটনার সময় বাসটিতে কোনো যাত্রী ছিলেন না।
নিরাপত্তা জোরদার, তদন্তে পুলিশ
একই দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় নগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এসব ঘটনায় কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা জানতে সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করছে পুলিশ। বিস্ফোরণের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।





