টাঙ্গাইল সদর উপজেলার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী ৮৫০ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে সংবর্ধনা দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিমন্ত্রীর নিজস্ব উদ্যোগে আয়োজিত ‘কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “বিগত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও সদরের জিপিএ-৫ পাওয়া সন্তানদের উৎসাহিত করতে এই আয়োজন করা হয়েছে। আগামী দিনেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে কেবল ভালো ফলাফলেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; মেধা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে নিজেদের প্রকৃত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং কালচার থেকে দূরে থেকে একটি নিরাপদ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “টাঙ্গাইলকে অতীতে শিক্ষার নগরী বলা হতো। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট আমল দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে চরম সংকটে ফেলেছিল।
বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মানোন্নয়ন ও গতিশীলতা ফেরাতে নিরলস কাজ করছেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
১১ দলের লংমার্চ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কর্মসূচি দেওয়ার অধিকার সবার থাকলেও অতীতের ধ্বংসপ্রাপ্ত তেল-গ্যাস খাত পুনরুদ্ধারে সরকারের চেষ্টার বিষয়টি লক্ষ্য রাখা উচিত।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কৃতী শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পরবর্তীতে সংবর্ধিত ৮৫০ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের হাতে সম্মাননা সনদ, ক্রেস্ট, কলেজ ব্যাগ ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডা. জোবায়দুর রহমান জনি। এতে অন্যান্যের মধ্যে টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপার মো. শামসুল আলম সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচ এম মাহবুব রিজুয়ান সিদ্দিকীসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতি ও ক্যারিয়ার বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন অনলাইন শিক্ষক মো. ফাহাদ হোসেন, বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী মেফতাউল আলম সিয়াম এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনকারী জাহাঙ্গীর আলম শান্ত। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. জে আলী। অনুষ্ঠান শেষে মনোজ্ঞ র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়।





