ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির পর তার স্ত্রীকে (৩২) সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় প্রবাসীর স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বাড়ির উঠানের গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। পরে ডাকাত দল নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জড়িত থাকার অভিযোগে রাজিব (২৩) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আটক রাজিবের কাছ থেকে ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত অন্য চার অভিযুক্ত এখনও পলাতক রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রবাসীর স্ত্রী তার স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে নতুন নির্মাণাধীন বাড়িতে বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে কয়েকজন যুবক এসে ছেলেকে ডেকে কুড়াল চায়। ছেলেটি দরজা খুলতেই ৫-৬ জনের এক দল যুবক অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ঘরে প্রবেশ করে এবং ছেলেটিকে উঠানের একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলে।
এরপর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ওই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। এ সময় ডাকাতদের একজন মুঠোফোনে ধর্ষণের ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে। একই সঙ্গে তারা ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়। চলে যাওয়ার সময় বিষয়টি কাউকেই না জানানোর জন্য হুমকি দেয় এবং জানালে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে সতর্ক করে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের চিৎকারে স্থানীয় প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন এবং ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে গফরগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগী নারী ও তার ছেলেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, অপরাধীদের ধরতে তৎক্ষণাৎ অভিযান শুরু হয়। শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে রাজিবকে আটক করা হয়। এ সময় সে ভিডিও ধারণকৃত মোবাইল ফোনটি পানিতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশ তা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে বাকি অভিযুক্তরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।
রাজিব নামে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকি অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে রয়েছে। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।





