× Banner
সর্বশেষ
খাল খননের উদ্বৃত্ত ৬১ লাখ টাকা কোষাগারে জমা দিলেন ইউএনও ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন সিটি’ বাস্তবায়নে দুই সিটির কার্যক্রমে গতি বাড়ানোর নির্দেশ ফেসবুকে প্রেম, নেত্রকোনায় এসে তরুণীকে বিয়ে করলেন চীনা যুবক ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা দুই মামলায় জামিন পেলেন ব্যারিস্টার সুমন বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির দিকে যাচ্ছে – নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ‘দেশকে এগিয়ে নিতে দৈনিক ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন প্রধানমন্ত্রী’ এই সরকার স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে – নাহিদ ইসলাম খাদ্য নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য শক্তি ও কৃষকের স্বার্থ বিবেচনায় এগিয়ে নিতে হবে এগ্রিভোল্টাইক কার্যক্রম – পরিবেশমন্ত্রী ইউআইইউতে প্রাইম ব্যাংকের “এমপাওয়ারিং ইয়ুথ সিজন ২.০” অনুষ্ঠিত

শহুরে নকশাল’ ও টুকরে টুকরে গ্যাংদের হুশিয়ারি

admin
হালনাগাদ: শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৯

CAA ও NRC  নিয়ে ভ্রান্তি ছড়ানোর দায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরাসরি যাদের ঘাড়ে চাপিয়েছিলেন, সেই ‘শহুরে নকশাল’ ও ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’কে উচিত শিক্ষা দেওয়ার কথা জানালেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ বৃহস্পতিবার দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে শাহ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, কংগ্রেস এই ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’কে নেতৃত্ব দিচ্ছে। হিংসা ছড়াচ্ছে। এদের উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়ার সময় এসে গেছে।

লোকসভা ভোটের আগে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র বিক্ষোভের সময় এই ‘শহুরে নকশাল’ ও ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ শব্দ চালু হয়। বিজেপির পক্ষ থেকে বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই এই শব্দচয়ন করেছিলেন। এই দুইয়ের সঙ্গে তিনি ‘খান মার্কেট গ্যাং’ শব্দও চালু করেন। তাঁর মতে, এসব শহুরে নকশাল বা টুকরে টুকরে গ্যাং অথবা খান মার্কেট গ্যাংয়ের সদস্য দেশবিরোধী কাজ করে যাচ্ছে। বিচ্ছিন্নতাবাদে মদদ দিচ্ছে। এবার নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) এবং নাগরিক নিবন্ধন তৈরি (এনআরসি) নিয়ে দেশব্যাপী যে বিক্ষোভ মাথা চাড়া দিয়েছে, তাদের পেছনেও এসব মানুষই দায়ী বলে ঘোষণা জানিয়ে ছিলেন মোদি। কংগ্রেস তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে জানিয়ে শাহ এবার তাদের ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার কথা শুনিয়ে দিলেন।

দল হিসেবে বিজেপিও নতুন করে ‘শহুরে নকশাল’দের আক্রমণের লক্ষ্য করে তুলেছে। বিশিষ্ট লেখিকা অরুন্ধতী রায়কে আক্রমণ করে বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র আজ বলেন, এসব বিচ্ছিন্নতাবাদীই দেশকে রসাতলে পাঠাচ্ছে। স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, এসব বিরোধীকে ‘উচিত শিক্ষা’ দিতে দল সক্রিয় হচ্ছে।

সিএএ ও এনআরসির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী আন্দোলনের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার বা এনপিআর প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ করায় এই বিতর্ক নতুন এক বাঁক নিয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী নতুন তোপ দাগিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। এনআরসি নিয়ে কোনো কথাই হয়নি এবং দেশের কোথাও ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’ বা বন্দিশিবির নেই বলে প্রধানমন্ত্রী যা জানিয়েছেন, রাহুল গান্ধী তা ‘ঝুট, ঝুট, ঝুট’ বলেছেন। রাহুল বলেছেন, ‘আরএসএসের প্রধানমন্ত্রী মাদার ইন্ডিয়ার কাছে মিথ্যে বলেছেন।

টুইটের সঙ্গে রাহুল প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের কিছু অংশ ও আসামের গোয়ালপাড়ায় নির্মীয়মাণ বন্দিশিবির–সংক্রান্ত প্রতিবেদন জুড়ে দিয়েছেন। রাহুল যে ‘ঝুট’ শব্দ জুড়ে টুইট করেছেন, তা প্রধানমন্ত্রীর রামলীলা ময়দানের ভাষণ থেকেই নেওয়া। বিজেপি সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ জানিয়েছে। বলেছে, রাহুল মিথ্যের বাদশা।

দেশজোড়া এই বিতর্কের মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত। আজ দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে নাগরিকত্ব নিয়ে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হিংসা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার যাঁরা নেতৃত্ব দেন, তাঁরা আদৌ নেতা নন। রাওয়াত বলেন, নেতৃত্ব দেওয়া খুবই কঠিন। নেতাকে ঠিক পথে এগোতে হয়। মানুষকে ঠিক পথে নিয়ে আসতে হয়। ভুল পথে চালিত করা সঠিক নেতার পরিচয় নয়।

সেনাপ্রধানের এই রাজনৈতিক মন্তব্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কংগ্রেস বলেছে, সেনাপ্রধানকে রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করতে দেওয়া হলে আগামী দিনে তাঁকে সেনা–অভ্যুত্থানে উৎসাহিত করা হবে। হায়দরাবাদের এআইএমআইএম নেতা আসাউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, সেনাপ্রধানের নিজের এখতিয়ার বোঝা দরকার। রাজনৈতিক কথা বলে তিনি সরকারের অবমাননা করছেন। কংগ্রেস নেতা দিগ্বীজয় সিং বলেছেন, সেনাপ্রধান নিজের অধিকারের বাইরে যাচ্ছেন। রাজনীতি তাঁর কাজ নয়।

বিজেপির শরিক সংযুক্ত জনতা দলের নেতা প্রশান্ত কিশোর আজ সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে জানান, দেশজোড়া বিক্ষোভের মুখে সরকার এনআরসি নিয়ে একটু পিছু হটেছে মাত্র। কিন্তু এনআরসি ত্যাগ করেনি। সিএএ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পছন্দের রায় দিলে সরকার নতুন উদ্যমে এনআরসি নিয়ে নামবে। সংযুক্ত জনতা দলের তীব্র বিরোধিতার কারণে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার জানিয়েছেন, বিহারে এনআরসি করতে দেওয়া হবে না।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..