ঢাকা: সিটি কর্পোরেশন ও শহরাঞ্চলসহ সারাদেশে চলাচলকারী তিন চাকার ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার নিবন্ধন, চলাচল ও ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে নতুন বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
ই-রিকশার সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আজ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সভায় ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ, নিবন্ধন, লাইসেন্সিং এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা বিভিন্ন প্রস্তাব ও সুপারিশ তুলে ধরেন। আগের কয়েকটি সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।
ফিটনেস পরীক্ষা ও নিবন্ধনের আওতায় আসবে ই-রিকশা
সভায় নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনা, সড়কে যান চলাচলের শৃঙ্খলা, ই-রিকশার ফিটনেস পরীক্ষা ও প্রত্যয়ন, গ্যারেজ এবং চার্জিং ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ, ই-রিকশার কারিগরি মান এবং নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
সভায় জানানো হয়, বর্তমানে চলাচলরত ই-রিকশাগুলোর ফিটনেস পরীক্ষা করে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় প্রত্যয়ন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এর মাধ্যমে অনুপযুক্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি হবে।
জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না
সভাপতির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে বিধিমালা বাস্তবায়ন করা গেলে নগরীর যানজট কমানোর পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সড়ক নিরাপত্তা বাড়ানো সম্ভব হবে।
আরও পড়ুনঃ খাদ্যগুদামের সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর পদক্ষেপ: খাদ্যমন্ত্রী
স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক লাইসেন্সিং ও নিবন্ধন চালু করা হলে ই-রিকশা খাতকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আনা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে নিবন্ধন ও লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ই-রিকশার ফিটনেস, চার্জিং ব্যবস্থা ও অন্যান্য কারিগরি বিষয়কে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা প্রয়োজন। এতে যানবাহনের নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে।
আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে বিধিমালার খসড়া
মীর শাহে আলম জানান, ই-রিকশা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিধিমালার খসড়া শিগগিরই আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিধিমালা প্রণয়ন এবং পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
ই-রিকশার কারিগরি ও অবকাঠামোগত ব্যবস্থাপনা নিয়ে সভায় বিশেষজ্ঞ মতামত দেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এহসান এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান।
আরও পড়ুনঃ শিক্ষা খাতে বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের উদ্যোগ
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন।



