ঢাকা: বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে রূপ দিতে চায় বাংলাদেশ সরকার। দুই দেশের মধ্যে জনশক্তি রপ্তানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২ লাখ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া। বলেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
আজ সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমানের সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের প্রসঙ্গ উঠে আসে। সফরটি সফল হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার। পরে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা।
৬ মাসে ২ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার আগ্রহ
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, আগামী ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২ লাখ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া।
আরও পড়ুনঃ ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’ সংসদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত
তিনি বলেন, এই কর্মীদের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ৮ লাখ নিবন্ধিত বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন। নতুন করে আরও কর্মী পাঠানোর পাশাপাশি দেশটিতে অবস্থানরত অনিবন্ধিত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিবন্ধনের প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে।
প্রকৌশলী থেকে হাসপাতাল নির্মাণ—সহযোগিতার বিস্তৃত ক্ষেত্র
বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠানোর পাশাপাশি অনিবন্ধিত শ্রমিকদের নিবন্ধনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের জন্য মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়।
আরও পড়ুনঃ ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন বিধিমালা, ফিটনেস সনদের উদ্যোগ -স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী
দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে হাসপাতাল নির্মাণ, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া খেলাধুলার সামগ্রী উৎপাদন, ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি, নির্মাণ খাত এবং হালাল খাদ্য শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারে ঐকমত্য
বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জনশক্তি রপ্তানির পাশাপাশি বিনিয়োগ, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নির্মাণ ও বাণিজ্যের মতো খাতে সহযোগিতা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক আরও বহুমাত্রিক ও কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে পরিণত হতে পারে।


