খাদ্যগুদামের সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর পদক্ষেপ: খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যগুদামের সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর পদক্ষেপ: খাদ্যমন্ত্রী
খাদ্যগুদামের সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর পদক্ষেপ: খাদ্যমন্ত্রী

মানিকগঞ্জ: সরকারি খাদ্য কর্মসূচির সুফল যাতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে খাদ্যগুদামকেন্দ্রিক সিন্ডিকেট ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।

তিনি বলেন, খাদ্যগুদাম ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি খাদ্য কর্মসূচির সুবিধা যেন কোনোভাবেই মধ্যস্বত্বভোগী বা অনিয়মকারীদের হাতে চলে না যায়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে।

আজ মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার সদর এলএসডির বেউথা ক্যাম্পাস এবং সাটুরিয়া উপজেলার সাটুরিয়া এলএসডি আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী।

দুর্যোগ মোকাবিলায় খাদ্য মজুত বাড়ানো হচ্ছে

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, যেকোনো সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো সংকট তৈরি হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য আগেই মজুত রাখা হচ্ছে।

পরিদর্শনের সময় তিনি খাদ্যগুদামে সংরক্ষিত ধান, চাল, গম ও আটার মজুত সরেজমিনে দেখেন। পাশাপাশি খাদ্যশস্যের সংরক্ষণ পদ্ধতি, গুণগতমান এবং গুদামের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য নেন।

আফরোজা খানম রিতা বলেন, খাদ্যগুদামে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য রয়েছে কি না এবং সংরক্ষিত খাদ্য নিরাপদ ও মানসম্মত অবস্থায় আছে কি না, সেটি নিশ্চিত করাকে তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ সমাজসেবা অধিদপ্তরের ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে কমিটি

এ জন্য পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলার খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করা হবে বলেও জানান তিনি।

দেশের সব জেলায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত

মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়ার খাদ্যগুদামে প্রয়োজনীয় পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, পরিদর্শনে থাকা ধান, গম ও আটার মান সন্তোষজনক পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, মানিকগঞ্জের মতো দেশের অন্যান্য জেলাতেও চাহিদা বিবেচনায় খাদ্যশস্যের মজুত গড়ে তোলা হয়েছে।

দুর্যোগ কিংবা জরুরি কোনো পরিস্থিতি দেখা দিলে যাতে দ্রুত মানুষের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়, সে লক্ষ্যেই জেলা পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী মজুত নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ শিক্ষা খাতে বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের উদ্যোগ

খাদ্যমন্ত্রীর ভাষ্য, বর্তমানে দেশের কোনো জেলায় খাদ্য সংকট নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী জনগণের মধ্যে ধান, চাল, গমসহ অন্যান্য খাদ্যশস্য নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খলভাবে বিতরণ করার সক্ষমতা সরকারের রয়েছে।

অনিয়ম হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা

খাদ্যগুদামে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা অথবা খাদ্যশস্যের মান নিয়ে কোনো সমস্যা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন খাদ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, খাদ্যগুদাম ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না। খাদ্যশস্যের সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

সম্প্রতি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামে অনিয়মের অভিযোগ ও অসঙ্গতি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি খাদ্য মজুতের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা গ্রহণযোগ্য হবে না।

পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।