পাকিস্তানের বাঁহাতি ব্যাটার ইমাম-উল-হকের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। চোট নিয়ে অসততার অভিযোগের পর এবার ড্রেসিংরুমের তথ্য প্রকাশ এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের মতো বিষয়ও তদন্তের আওতায় এসেছে বলে খবর। সব অভিযোগ প্রমাণিত হলে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে পারেন পাকিস্তানি এই ক্রিকেটার। এমনকি নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ-এর প্রতিবেদনে সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ইমামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করেছে। তদন্তের পর খুব শিগগিরই তার বিষয়ে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লর্ডস টেস্ট থেকেই চোট নিয়ে প্রশ্ন
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টে ইমামের চোট নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে বাঁ পায়ের মাংসপেশিতে চোটের কথা জানিয়ে কোনো ইনিংসেই ব্যাটিংয়ে নামেননি তিনি।
ইমামের চোটের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড। এরপর চোটের সত্যতা যাচাই করতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তদন্ত শুরু করে বলে জানা যায়।
চোটের বিষয়ে অনিয়ম প্রমাণিত হলে ইমামের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করা হয়েছিল—এমন দাবিও পাকিস্তানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তবে পরে কোচ, নির্বাচক ও অধিনায়কদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা পরিবর্তিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর ইমামের ওপর নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল বলেও খবর পাওয়া যায়।
রিজওয়ানের সঙ্গে আর্থিক কর্মকাণ্ডও তদন্তে
ইমামের জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আরেকটি তদন্ত। মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হকের আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়েও তদন্ত চলছে বলে জিও নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি তাদের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করছে।
আরও পড়ুনঃ শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে নারী এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন ভারত
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে ও পরে তাদের আর্থিক কর্মকাণ্ড এবং ব্যাংক হিসাবও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট অর্থের উৎস, গন্তব্য এবং ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সম্ভাব্য সম্পর্কও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল বা কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত এখনো ধরে নেওয়া ঠিক নয়। চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
মাঠেও কঠিন সময় পার করছে পাকিস্তান
ইমাম-উল-হককে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই মাঠের পারফরম্যান্সেও কঠিন সময় পার করছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে পাকিস্তান। হেডিংলিতে সিরিজের প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে হারের পর লর্ডস টেস্টে ১৯৪ রানে এবং এজবাস্টনে ৮ উইকেটে পরাজিত হয় তারা।
এই ব্যর্থতার প্রভাব পড়েছে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়েও। সিরিজে ধবলধোলাইয়ের পর পাকিস্তান নবম স্থানে নেমে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ৭১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে এটি দলটির টেস্ট র্যাঙ্কিং ইতিহাসের সবচেয়ে নিচের অবস্থান বলেও দাবি করা হয়েছে।
এ অবস্থায় ইমাম-উল-হকের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের ফলাফল পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগগুলো কতটা সত্য এবং তার বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।





