মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছিল। তবে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই অবস্থানের পর বিশ্ববাজারে ফের বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের নভেম্বর ডেলিভারি ফিউচার মূল্য আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ১৪ ডলার বা ১ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ৭৩ ডলারে দাঁড়ায়।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে ৮৯ দশমিক ৭২ ডলারে পৌঁছায়।
সেপ্টেম্বরে ব্রেন্টের বড় মূল্যবৃদ্ধি
চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ বাড়ার পথে রয়েছে। জুলাইয়ের পর এটিই হতে পারে ব্রেন্টের সবচেয়ে বড় মাসিক মূল্যবৃদ্ধি।
অন্যদিকে, মে মাসের পর প্রথমবারের মতো ১০৬ ডলারের ওপরে ওঠা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম চলতি মাসে প্রায় ৪ শতাংশ বাড়ার পথে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ পরিস্থিতি, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিই বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামার অন্যতম প্রধান কারণ।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি বেড়েছে
জ্বালানি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিশ্চিত হওয়া দৈনিক তেল পরিবহনের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা গেছে। ওই সময়ে প্রতিদিন গড়ে ৬৫ লাখ থেকে ১ কোটি ২৬ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত তেল পরিবহনের তথ্য পাওয়া গেছে।
কেপলার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনের প্রাথমিক তথ্য যাচাই ও চূড়ান্ত হিসাব সম্পন্ন হলে এই সরবরাহের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
এর আগে গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত কেপলারের তথ্য বলছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বেড়ে দৈনিক ১ কোটি ৬৩ লাখ ২৮ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে এটিই সর্বোচ্চ দৈনিক অপরিশোধিত তেল রপ্তানির পরিমাণ বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
নিষেধাজ্ঞা ও সরবরাহ পরিস্থিতিতে নজর বাজারের
মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ বাড়লেও ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল না করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ফলে সরবরাহ বাড়ার ইতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিও তেলের দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের নজর এখন মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ পরিস্থিতি, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আঞ্চলিক সংঘাতের গতিপ্রকৃতির দিকে। এসব বিষয়ে পরিবর্তন এলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামেও দ্রুত পরিবর্তন আসতে পারে।





