আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের লাফ ও বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কায় নিম্নমুখী স্বর্ণের বাজার। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ (ফেড) চলতি সপ্তাহের বৈঠকেই সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশা জোরালো হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে ফের দরপতন ঘটেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে স্পট স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৩৪ দশমিক ৩১ ডলারে। এর আগে গত শুক্রবার টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো দরপতন দেখে সোনার বাজার। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে (গোল্ড ফিউচার) সোনার দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৭৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানান, ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও তেলের বাজার অস্থিরতার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার উঁচু রাখার নীতি নিতে বাধ্য হচ্ছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে বা অপরিবর্তিত উচ্চহারে থাকলে কোনো নিশ্চিত লভ্যাংশ না দেওয়া সম্পদে (যেমন সোনা) বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্যমতে, দেশটির সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতির চিত্র প্রকাশের পর মঙ্গলবার ও বুধবারের ফেড বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা দাঁড়ায় ৮৬ দশমিক ৫ শতাংশে। এ ছাড়া জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বিশ্বের অন্যান্য প্রধান ব্যাংকও এ সপ্তাহে সুদের হার বৃদ্ধি করতে পারে বলে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা ও সৌদি আরবের তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার খবরে সোমবার তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এ ছাড়া কূটনৈতিক ব্যর্থতায় ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বৈঠক পিছিয়ে যাওয়ায় সংকট ঘনীভূত হয়েছে।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের পাশাপাশি কমেছে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও। সোমবারে স্পট রুপার দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৪ দশমিক ০২ ডলারে নেমে এসেছে। তবে প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম সামান্য ওঠানামার মধ্য দিয়ে যথাক্রমে ১ হাজার ৭৯৬ দশমিক ৯০ ডলার ও ১ হাজার ২৯৮ দশমিক ৮০ ডলারে স্থির রয়েছে।





